আব্দুল গনি রোড ছাড়ছে সচিবালয়? লুই আই কানের নকশা মেনেই শেরেবাংলা নগরে বিশাল কর্মযজ্ঞের আভাস

 প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

আব্দুল গনি রোড ছাড়ছে সচিবালয়? লুই আই কানের নকশা মেনেই শেরেবাংলা নগরে বিশাল কর্মযজ্ঞের আভাস

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​রাজধানীর চিরচেনা আব্দুল গনি রোডের সেই ব্যস্ত সচিবালয় কি তবে ঠিকানা বদলাচ্ছে? চার দেয়ালের ঘিঞ্জি পরিবেশ আর যানজটের দমবন্ধ দশা থেকে মুক্তি পেতে এবার বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এসেছে এক যুগান্তকারী নির্দেশনা— স্থপতি লুই আই কানের সেই ঐতিহাসিক মূল নকশা অনুসরণ করে পুরো সচিবালয়কে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে শেরেবাংলা নগরে।

​দীর্ঘদিন ধরেই সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের প্রধান অভিযোগ ছিল জায়গার সংকট। এই সংকট মেটাতে আব্দুল গনি রোডের বর্তমান চত্বরেই ৬৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ২১ তলা আধুনিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছিল গণপূর্ত অধিদপ্তর। পরিকল্পনা কমিশনও দিয়েছিল সবুজ সংকেত। কিন্তু সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় একনেক সভায় দৃশ্যপট আমূল বদলে যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রকল্পটির অনুমোদন না দিয়ে বরং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন।

​গল্প যখন নতুন ঠিকানার

সচিবালয়ের বর্তমান সচিবালয়ে প্রায় ১০ লাখ বর্গফুট জায়গা থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় সাগরের মাঝে এক বিন্দু জল। আরও প্রায় ৭ লাখ বর্গফুট জায়গার জন্য হাহাকার চলছে দীর্ঘকাল। কিন্তু পরিকল্পনা বিভাগের সচিব শাকিল আখতারের কথায় উঠে এল এক রূঢ় বাস্তবতা— "আগামী ৫০ বছরের কথা ভাবলে একের পর এক বহুতল ভবন তুলে সচিবালয়কে আর কত বড় করা সম্ভব?" প্রতিদিন সকালে হাজার হাজার কর্মকর্তা ও দর্শনার্থীদের গাড়ির চাপে আব্দুল গনি রোড যখন স্থবির হয়ে পড়ে, তখন নতুন ভবন মানেই সেই যানজটকে আরও উসকে দেওয়া।

​এই সংকট থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর চোখ এখন শেরেবাংলা নগরের সাবেক বাণিজ্য মেলার মাঠের দিকে। সেখানে ১০ থেকে ১২টি আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সরকারের সব মন্ত্রণালয়কে একই ছাতার নিচে আনার কথা ভাবা হচ্ছে। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক স্থানান্তর নয়, বরং লুই আই কানের সেই মূল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের একটি বড় ধাপ।

​চ্যালেঞ্জ যখন ট্রাফিক ও পরিবেশ

তবে এই স্বপ্নিল পরিকল্পনার পথে কিছু ‘যদি’ এবং ‘কিন্তু’ও রয়েছে। সচিবালয়ের বিশাল কর্মযজ্ঞ শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরিত হলে সেখানকার শান্ত পরিবেশ এবং জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় কী প্রভাব পড়বে, তা এখন বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। সংসদ ভবনে নিয়মিত ৩০০ সংসদ সদস্যের যাতায়াত, তার ওপর গুরুত্বপূর্ণ সব সরকারি দপ্তরের চাপ— সব মিলিয়ে ওই এলাকায় যেন নতুন করে কোনো জট সৃষ্টি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

​প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই গণপূর্ত অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন এই স্থানান্তরের কারিগরি ও পরিবেশগত দিকগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে। প্রতিদিন কত মানুষ সেখানে যাতায়াত করবেন, ট্রাফিক জ্যামের ঝুঁকি কতটা— এই সবকিছুর একটি নিখুঁত প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই আসবে চূড়ান্ত ঘোষণা।

​আপাতত ২১ তলার সেই বিলাসবহুল ভবনের ফাইল লাল ফিতায় বন্দি হলেও, শেরেবাংলা নগরের উন্মুক্ত প্রান্তরে আধুনিক ও স্মার্ট সচিবালয়ের যে স্বপ্ন বোনা শুরু হয়েছে, তা দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা, কখন শুরু হয় সেই ঐতিহাসিক যাত্রা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement