ক্ষতের ওপর মমতার প্রলেপ: হাওরের কৃষকের তালিকায় স্বচ্ছতার ডাক প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
প্রকৃতির রুদ্রমোষে অকাল বর্ষণ আর ঢলে স্বপ্নভেজা হাওরের প্রতিটি কৃষক যখন নিঃস্ব চোখে আকাশের পানে চেয়ে আছেন, ঠিক তখনই আশার আলো হয়ে ঝরল রাষ্ট্রনায়কের অভয়বাণী। কোনো অনিয়ম নয়, কোনো স্বজনপ্রীতি নয়—হাওরের প্রতিটি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে রাষ্ট্রের মমতার হাত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা হতে হবে স্বচ্ছ ও প্রশ্নাতীত। কারণ, এই তালিকার ওপরই নির্ভর করছে আগামী তিনটি মাস তাঁদের বেঁচে থাকার রসদ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আয়োজিত এক জরুরি পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক ও কঠোর অবস্থান ফুটে ওঠে। বৈঠকটি ছিল নিছকই প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা হয়ে উঠেছিল বিপন্ন কৃষকের ভাগ্য বদলের সোপান। সভায় তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "তালিকায় যেন প্রকৃত কৃষকের বাইরে অন্য কারও নাম না আসে। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে যথাযথভাবে চিহ্নিত করতে হবে।" তাঁর ঘোষণায় উঠে আসে এক দীর্ঘমেয়াদী আশ্বাসের কথা—আগামী তিন মাস এই তালিকার ভিত্তিতেই প্রান্তিক কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে আর্থিক সহায়তার অর্থ।
হাওরের সেই হাহাকার মেশানো পানির শব্দের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতের সুরক্ষার সুর খুঁজে পেয়েছেন। সভায় কেবল তাৎক্ষণিক সহায়তার মধ্যেই আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রকৃতির বিরূপ আচরণের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে কৃষির ক্যালেন্ডারেও পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন তিনি। ধান রোপণ ও সংগ্রহের সময় কিছুটা এগিয়ে আনা যায় কি না, যাতে করে বৃষ্টির আগাম থাবায় ধান তলিয়ে না যায়, সে বিষয়েও তিনি বিশেষজ্ঞদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেন।
গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদের পবিত্র ফ্লোরে দাঁড়িয়ে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবারের এই সভা ছিল সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই প্রথম ধাপ। বৈঠকে যেন এক চিলতে হাওরই উঠে এসেছিল সচিবালয়ের অন্দরে। উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, কৃষি ও মৎস্যমন্ত্রী আমিনুর রশীদ ইয়াসিনসহ হাওর অঞ্চলের একঝাঁক জনপ্রতিনিধি। সংসদ সদস্যদের কণ্ঠে উঠে আসে তাঁদের এলাকার মানুষের আর্তনাদ, আর প্রধানমন্ত্রী তা শুনে নিলেন গভীর মনোযোগে।
বিপন্ন হাওরের বুকে এখন যে শঙ্কা বিরাজ করছে, প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর তদারকি আর মমতাময় নির্দেশনায় সেখানে ফিরে আসবে প্রশান্তি—এমনটাই প্রত্যাশা সবার। রাষ্ট্র এখন কৃষকের পাশে, আর সেই পাশে থাকার পথে বাধা হতে পারবে না কোনো অস্বচ্ছতা।