ঢাকা-ইসলামাবাদ নতুন সমীকরণ: আজ আসছেন মহসিন নাকভি, আলোচনার কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও ক্রিকেট

 প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

ঢাকা-ইসলামাবাদ নতুন সমীকরণ: আজ আসছেন মহসিন নাকভি, আলোচনার কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও ক্রিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 

ভোরের আলো ফোটার আগেই রানওয়ে ছুঁতে যাচ্ছে পাকিস্তানের একটি বিশেষ ফ্লাইট। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের শীতলতা কাটিয়ে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে আজ শুক্রবার দুই দিনের সফরে ঢাকা আসছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মন্ত্রী মহসিন রেজা নাকভি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কোনো রাষ্ট্রীয় সফর, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪২ ফ্লাইটে ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে মহসিন নাকভি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। মন্ত্রীর সঙ্গে আসছেন তার স্ত্রীও। এই সফরকে ঘিরে কেবল প্রটোকল বা কূটনিতিক আনুষ্ঠানিকতাই নয়, বরং আতিথেয়তায় রাখা হয়েছে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। পাকিস্তান থেকে আসা এই ভিভিআইপি দম্পতিকে বরণ করে নিতে উপহার হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ি ও সূক্ষ্ম কারুকাজের পাঞ্জাবি।

​সফরের মূল আকর্ষণ হতে যাচ্ছে আজ দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে মহসিন নাকভি এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হবেন। সেখানে দুই দেশের মধ্যে মাদক চোরাচালান রোধ এবং সন্ত্রাস দমনে একটি যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। মাদক সমস্যার ভয়াবহতা এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে একে অপরের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের এক নতুন বাতাবরণ তৈরির লক্ষ্যেই এই এমওইউ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

​তবে কেবল নিরাপত্তা ইস্যুতেই এই সফর সীমাবদ্ধ থাকছে না। মহসিন নাকভি একইসঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকায় সফরের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকছে ক্রিকেট কূটনীতি। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় আর সাইবার নিরাপত্তার আলোচনার পাশাপাশি বিকেলে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। দুই দেশের ক্রিকেটীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়মিতকরণ এবং মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও প্রশাসনিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি সেখানে গুরুত্ব পাবে।

​কূটনৈতিক মহলের মতে, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে এক ধরনের অঘোষিত দূরত্ব বজায় থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে যোগাযোগের এই ক্ষেত্রগুলো প্রশস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র পর্যায়ের এই বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

​নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা এই সফরের সকল প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ করেছে ঢাকা। পাকিস্তান হাইকমিশনের অনুরোধে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রটোকল নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ দিনভর ব্যস্ত সূচি শেষে শনিবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। স্বল্প সময়ের এই সফর ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী পথরেখা তৈরি করবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement