কোরবানির ঈদে টানা ৭ দিনের ছুটি, তবে ২৩-২৪ মে খোলা থাকছে অফিস

 প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

কোরবানির ঈদে টানা ৭ দিনের ছুটি, তবে ২৩-২৪ মে খোলা থাকছে অফিস

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বয়ে এল স্বস্তির খবর। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। তবে এই দীর্ঘ ছুটির আগে কাজের গতি সচল রাখতে ২৩ ও ২৪ মে অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

​ঈদের ছুটি ও কর্মপরিকল্পনা

​মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। এর ফলে সরকারি চাকুরিজীবীরা পরিবারের সাথে উৎসব উদযাপনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন। তবে ছুটির আমেজ শুরু হওয়ার ঠিক আগে অর্থাৎ ২৩ মে (শনিবার) ও ২৪ মে (রোববার) পূর্ণদিবস অফিস আদালত খোলা থাকবে। মূলত জরুরি দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করা এবং ঈদের ছুটির কারণে যাতে নাগরিক সেবা বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই দুই দিন অফিস খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই ছুটির ফলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যাতে স্থবিরতা না আসে, সেদিকেও নজর দিচ্ছে প্রশাসন।

​‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’ অনুমোদন

​এবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকের আরেকটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত এই নীতিমালার লক্ষ্য হলো দেশের জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার মানে আমূল পরিবর্তন আনা। নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এখন থেকে পাবলিক টয়লেট মানে কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং এটি হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।

​বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহারবান্ধব টয়লেট নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, মহাসড়ক কিংবা জনাকীর্ণ স্থানে নারীদের জন্য উপযুক্ত শৌচাগারের অভাব রয়েছে। এই অভাব পূরণে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে। মহাসড়কের নির্দিষ্ট দূরত্বে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত শৌচাগার নির্মাণ এখন থেকে বাধ্যতামূলক প্রকল্পের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

​পরিবেশ রক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি

​নতুন এই নীতিমালায় পরিবেশ দূষণ রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সকল পাবলিক টয়লেটে বাধ্যতামূলকভাবে ‘সেফটিক ট্যাংক’ থাকতে হবে। কোনোভাবেই মানববর্জ্য সরাসরি খাল, বিল বা নদীতে ফেলা যাবে না। যারা এই নিয়ম অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্থান রাখা হয়েছে।

​পাশাপাশি, কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের সঠিক টয়লেট ব্যবহার বিধি শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

​সমন্বয় ও বাস্তবায়ন

​মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এই নীতিমালা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী রাখা হবে।

​ঈদের ছুটির ঘোষণা এবং নতুন এই আধুনিক নীতিমালার অনুমোদন—উভয় সিদ্ধান্তকেই সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখছে। একদিকে যেমন উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের মতো দীর্ঘদিনের অবহেলিত একটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পেল দেশ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন হলে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথে এটি হবে এক বড় ধাপ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement