ঈদ ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে রাজধানী: ডিএমপি কমিশনারের কড়া হুঁশিয়ারি

 প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ঈদ ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে রাজধানী: ডিএমপি কমিশনারের কড়া হুঁশিয়ারি

​মহানগর ডেস্ক:

​আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ডিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় কমিশনার মো. সরওয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— উৎসবের এই সময়ে অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নগরবাসীকে একটি নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ ঈদ উপহার দিতে পুলিশের প্রতিটি ইউনিটকে সর্বোচ্চ সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

​সভায় ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে উঠে আসে কোরবানির ঈদকে ঘিরে সচরাচর সক্রিয় হয়ে ওঠা অপরাধী চক্রগুলোর তৎপরতার বিষয়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, জাল টাকার কারবারি, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও ছিনতাইকারীদের দমনে বিশেষ অভিযান জোরদার করতে হবে। অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ—কোথাও যেন এসব অপরাধী মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি 'ফুট পেট্রোল' বা পায়ে হেঁটে টহল দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। কমিশনারের ভাষায়, থানা এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বহন করতে হবে।

​ঈদের চিরচেনা যানজট ও পশুর হাটের ব্যবস্থাপনা নিয়েও কমিশনার একগুচ্ছ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, পশুর হাটের আশেপাশে যানজট যেন নাগরবাসীর ভোগান্তির কারণ না হয়, সেদিকে ট্রাফিক পুলিশকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে। এছাড়া নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে লঞ্চ ঘাট, বাস টার্মিনাল এবং রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে পুলিশের তৎপরতা কয়েক গুণ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদক উদ্ধার ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে চলমান অভিযানকে আরও বেগবান করার তাগিদ দেন তিনি।

​সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ঢাকার পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে, তবে এই ধারা বজায় রাখতে হলে বিশেষ করে চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করতে হবে।

​সভার একপর্যায়ে গত এপ্রিল মাসে ঢাকা মহানগরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানে সাহসিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দেওয়া কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়। ভারপ্রাপ্ত কমিশনার নিজ হাতে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের হাতে এই স্বীকৃতির সম্মাননা তুলে দেন, যা মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মনোবল আরও বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​এ সময় সভায় অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মাসুদ করিম, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এবং যুগ্ম কমিশনার ফারুক হোসেনসহ পুলিশের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ঢাকা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয় এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।

Advertisement
Advertisement
Advertisement