​মহাসড়কে ডাকাত আতঙ্ক: গরু লুট করে চালক-হেলপারকে গাছের সঙ্গে বাঁধল দুর্বৃত্তরা

 প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

​মহাসড়কে ডাকাত আতঙ্ক: গরু লুট করে চালক-হেলপারকে গাছের সঙ্গে বাঁধল দুর্বৃত্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা | ৭ মে, ২০২৬

​ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গভীর রাতের নিস্তব্ধতা চিরে নেমে এলো একদল ডাকাতের তাণ্ডব। ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি ট্রাক থেকে ১০টি গরু লুট করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল। শুধু লুটতরাজেই ক্ষান্ত হয়নি তারা, ট্রাকচালক ও সহকারীকে কুপিয়ে আহত করার পর সড়কের পাশের গাছে বেঁধে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

​ঘটনার বিবরণ: যেভাবে চলল তাণ্ডব

​পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর চারঘাট বাজার থেকে ১০টি গরু নিয়ে একটি ট্রাক চট্টগ্রামের মদিনা ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ট্রাকটি চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার বালুজুড়ি এলাকায় পৌঁছালে একটি পিকআপ ভ্যান আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে গতিরোধ করে।

​মুহূর্তের মধ্যেই ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ট্রাকটির ওপর। বাধা দিতে গেলে চালক আক্রাম হোসেনকে কুপিয়ে জখম করে ডাকাতরা। এরপর ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছেড়ে চৌদ্দগ্রাম-লাকসাম আঞ্চলিক সড়কের ফেলনা মোল্লাবাড়ি এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।

​অমানবিক নিষ্ঠুরতা

​সেখানে পৌঁছে চালক আক্রাম ও তার সহকারী দেলোয়ার হোসেনকে নির্দয়ভাবে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাদের মুখ বেঁধে রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে ফেলে রাখা হয়। এরপর ট্রাক থেকে ১০টি গরু ডাকাতদের নিজস্ব পিকআপে তুলে নিয়ে তারা লাকসামের দিকে চম্পট দেয়।

​"রাত ৩টার দিকে হঠাৎ পিকআপটা সামনে চলে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওরা অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। আমাদের মেরে গাছের সাথে বেঁধে সব গরু নিয়ে গেল।"— আক্রাম হোসেন, আহত ট্রাকচালক।

​উদ্ধার ও বর্তমান অবস্থা

​ভোরে স্থানীয় পথচারীরা সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দুজনকে গোঙাতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ খালি ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছে।

​প্রশাসনের বক্তব্য

​চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন জানান:​ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযানে নেমেছে।​লুট হওয়া গরু উদ্ধার এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।​এ বিষয়ে গরুর মালিকের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

​মহাসড়কে এমন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঈদের আগে কোরবানির পশুবাহী ট্রাকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement