পান (Betel leaf) চাষ প্রযুক্তি
পান (Piper betle) Piperaceae পরিবারভূক্ত গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের একপ্রকার বহুবর্ষজীবী লতা জাতীয় উদ্ভিদ। পান গাছ মাচা, বেড়া, অন্য কোনো গাছ বা ভরকাঠে ভর করে উপরে ওঠে। এর পাতা সবুজ, চকচকে, সুগন্ধি এবং হৃদয়াকৃতির। এর পাতা মুখরোচক ও সাংস্কৃতিক কারণে অত্যন্ত জনপ্রিয়। পান চাষ আমাদের দেশে হাজার বছরের ঐতিহ্যের অংশ যা বহু কৃষকের জীবিকা নির্বাহে ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। প্রাচীনকাল থেকে এটি মূলত বরজে চাষ হলেও বর্তমানে টবে, ছাদে, উঠানে ও ঘরের পাশে পান চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে।
চাষের এলাকা
বাংলাদেশে পান একটি বাণিজ্যিকভাবে চাষযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। দেশের প্রায় সব অঞ্চলে পান চাষ হয়, বিশেষ করে যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, ফরিদপুর, পটুয়াখালী, কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলায় উৎপন্ন পানের ৯০% উৎপাদিত হয়। এছাড়াও নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, ময়মনসিংহ, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, কক্সবাজার, নোয়াখালী ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে পান বরজের ব্যাপক বিস্তার রয়েছে। সাতক্ষীরার পান সুবাস ও দীর্ঘস্থায়িত্বের জন্য বিখ্যাত এবং বিদেশেও রপ্তানি হয়। বরিশালের পান পাতলা, সুস্বাদু ও সহজপাচ্য হওয়ায় জনপ্রিয়। রাজশাহী ও নাটোর অঞ্চলের পান তুলনামূলক বড় আকারের, রসালো ও মিষ্টি। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পান গাঢ় সবুজ, টেকসই ও বাজারে চাহিদাসম্পন্ন। নারায়ণগঞ্জের পান আকারে ছোট হলেও স্বাদে অনন্য।
পুষ্টিগুণ
পান পাতা পুষ্টিগুণে ভরপুর। পানে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’, ক্যালসিয়াম, থায়ামিন, নিয়াসিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এছাড়াও রয়েছে গ্যাস্ট্রো প্রটেকটিভ, অ্যান্টি-ফ্লটুলেন্ট এবং কার্মিনেটিভ এজেন্ট যার কারণে পান চাবানোর সময় মুখে স্যালাইভা তৈরি করে। প্রতি ১০০ গ্রাম পানে পানি ৮৫.৪%, শর্করা ৬.১%, প্রোটিন ৩.১%, ফ্যাট ০.৮%, খনিজ উপাদান ২.৩%, আঁশ ২.৩%, নিকোটিন এসিড ০.৬৩-০.৮৯ গ্রাম, ভিটামিন এ ১.৯-২.৯ মিলিগ্রাম, থায়ামিন ১০-৭০ মাইক্রোগ্রাম, রিবোফ্লোভিন ১.৯-৩০ মাইক্রোগ্রাম, আয়োডিন ৩.৪ মাইক্রোগ্রাম এবং শক্তি ৪৪ কিলোক্যালরি বিদ্যমান।
পানের ব্যবহার
বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে পানের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পান পাতা মূলত: চিবানোর জন্য ব্যবহৃত হয় যেখানে সুপারি, চুন ও অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে খাওয়া হয়। বিয়ে, পূজা-পার্বণসহ নানা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পান অপরিহার্য উপাদান। সাধারণত পান মুখশুদ্ধি হিসেবে কাজ করলেও এতে রয়েছে আরও অনেক ভেষজ গুণ। কাশি, সর্দি, গলা ব্যথা, ক্ষত বা ফোঁড়া নিরাময়ে এর ব্যবহার প্রচলিত। গ্রামীণ চিকিৎসায় পান পাতা নানা রোগে প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পান কৃমিনাশক। এটি হজম শক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ভাল রাখে, শ্বাসযন্ত্রের জন্য ভাল, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, মানসিক অবসাদ দূর করে, হাঁপানি দূর করতে সাহায্য করে। পান পাতা চিবানো সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভাল।
পানের জাত
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে উচ্চফলনশীল, বিভিন্ন গুণাবলী সম্পন্ন এবং রোগ প্রতিরোধে সক্ষম বারিপান-১, বারিপান-২ এবং বারিপান-৩ জাত সহ বিভিন্ন দেশীয় জাত যেমন বাংলা পান, চালতা গোটা, মিঠাপান, সাঁচি পান, ভাবনা, রংপুরী পান, সন্তোষী, খাসিয়া পান, কর্পূরী, গ্যাচ, নাতিয়াবাসুত, উজানী, মাঘি, বরিশাল ও ঝালি প্রভৃতি জাতের পান বরজে চাষ করা হয়।
বারি পান-৩
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে সংগৃহীত স্থানীয় জার্মপ্লাজম থেকে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানের উন্নত জাত ‘বারি পান-৩’ উদ্ভাবন করা হয়। জাতটি ২০১৭-১৮ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অবমুক্ত হয় যা বারি পান-৩ নামে পরিচিত। পাতাগুলো গাঢ় সবুজ বর্ণের, বড় ও বোঁটা লম্বা। ‘বারি পান-৩’ বাংলাদেশের সর্বত্র সারা বছর চাষ উপযোগী। পান বরজের পরিচর্যা সময়মতো ও সঠিকভাবে গ্রহণ করা গেলে লতা লাগানোর ৬-৮ মাসের মধ্যে পান সংগ্রহ করা যায়। এ জাতের লতা প্রতিমাসে গড়ে ৩১.০০-৩৩.৬৩ সেমি. করে বৃদ্ধি পায়। এক মিটার দৈর্ঘ্যের লতায় গড়ে ১৯-২২টি পান পাওয়া যায়। পাতার পুরুত্ব গড়ে ০.৭৫-০.৯০ মিমি. ও পাতার বোটার দৈর্ঘ্য গড়ে ৮.৯০-৯.৩৪ সেমি. হয়। জাতটিতে রোগ ওে পোকার আক্রমণ অন্যান্য জাতের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম হয়। জাতটি হতে প্রতি বছর হেক্টরপ্রতি ৩৭.৫০-৪০.৯১ লাখ পান উৎপাদিত হয় বা হেক্টরপ্রতি ২০.০০-২২.৪৩ টন ফলন হয়।
আবহাওয়া, জলবায়ু ও মাটি
পান গাছ ছায়াযুক্ত, উষ্ণ ও র্আদ্র আবহাওয়ায় স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে পান ভাল জন্মে। আমাদের দেশে খরিফ মৌসুমে পান উৎপাদনের পরিমাণ রবি মৌসুমের তুলনায় দ্বিগুন হয়। গ্রীষ্মকালে পানের আকার ছোট হয় তবে স্বাদ ভালো হয়। বর্ষাকালেও পানের ফলন ভালো হয়। পান চাষের জন্য বাৎসরিক বৃষ্টিপাত ২,২৫০-৪,৭৫০ মিমি, আপেক্ষিক আদ্রতা ৪০-৮০% এবং তাপমাত্রা ১৫-৪০ ডিগ্রি সে.। তবে ১৫-২৫ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রায় পান ভালো হয়। নিষ্কাশনযুক্ত, উঁচু, ঊর্বর বেলে বা বেলে দোআঁশ বা এঁটেল মাটি পানচাষের জন্য বেশি উপযোগী। মাটির পিএইচ ৫.৬ থেকে ৮.২ হলে পান চাষের জন্য ভালো। অনেকদিন পতিত অবস্থায় আছে এমন এঁটেল মাটিও পান চাষের জন্য উপযোগী।
জমি তৈরি ও মাটি শোধন
পানের জমি ৩-৪টি চাষ দিয়ে আগাছা বাছাই করে, মই দিয়ে সমান করে ভালোভাবে তৈরি করে নিতে হবে। জমি চাষ করে কিছুদিন ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। মাঝে মাঝে লাঙ্গল দিয়ে মাটি ওলট-পালট করে দিতে হবে। বৃষ্টির পানি যাতে না জমে সেজন্য পান চাষের জন্য নির্বাচিত জমির মাটি একদিকে বা দু’দিকে ঢালু থাকতে হবে। চৈত্র-বৈশাখ মাসে ১ মাস ধরে স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখে মাটি শোধন করতে হবে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য মাঝে মধ্যে বিকালের দিকে পলিথিন সরিয়ে অল্প পানি ছিটিয়ে দিয়ে আবার পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ৬০ মিলি ফরমালিনে ১০ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে প্রতি বর্গমিটার জমিতে প্রয়োগ করে পলিথিন দিয়ে ৪-৫ দিন ঢেকে রাখতে হবে। মাটি শোধনের ২০-২৫ দিন পর লতা রোপণ করতে হবে।
বরোজ তৈরি
পান গাছকে রোদ ও প্রবল বাতাসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য উন্নতমানের বরোজ এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেখানে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় আলো বাতাস চলাচল করতে পারে। একটি বরজের আয়তন সাধারণত বারো থেকে কুড়ি শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকে। বরোজ তৈরির জন্য প্রথমে ২.৫-৩.০ মিটার লম্বা পাকা বাঁশের খুঁটি তৈরি করে গোড়ায় আলকাতরার প্রলেপ দিতে হবে। এতে বরোজে উঁইয়ের আক্রমণ হবে না। খুঁটি চারিদিকে পোঁতার পর তাতে বাঁশের চটা, ছন/খড়/কাশ জাতীয় ঘাস দিয়ে ছাউনি ও শুকনা কলাপাতা, খেজুর পাতা, সুপাড়ি পাতা এসব দিয়ে বেষ্টনী বা বেড়া দেয়া হয়। একটি পানের বরজ ১০-২০ বছর পর্যন্ত রাখা যায়। এরপর নতুন স্থানে বরজ করে পান চাষ করতে হয়। বরজে সেচ ও নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে।
বেড তৈরি
আয়তনের উপর ভিত্তি করে চলাফেরার সুবিধার জন্য জমিকে কয়েকটি ব্লকে ভাগ করে নিতে হবে। প্রতিটি ব্লকে কতগুলো বেড থাকবে সেখানে পান গাছ লাগাতে হবে। প্রতিটি বেড ৫০ সেমি. চওড়া এবং ১৫ সেমি. উঁচু হবে। প্রতি বেডে দুইটি সারি থাকবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ২০-২৫ সেমি.। প্রতিটি সারির বাইরের দিকে ১২.৫ সেমি. জায়গা ফাঁকা থাকবে। প্রতিটি সারিতে একটি গাছ থেকে অপর গাছের দূরত্ব হবে ১৫-২০ সেমি.। দুই সারি বিশিষ্ট একটি বেড থেকে অপর বেডের দূরত্ব হবে ৫০ সেমি.। আবার প্রতি দুই বেডের মাঝখানে ৩০ সেমি. নালা রাখা দরকার।
কাটিং লতা নির্বাচন
পানের বংশবিস্তার লতা বা কাটিং এর মাধ্যমে হয়ে থাকে। পানের লতা বা কাটিং তৈরির জন্য ২-৩ বছর বয়সের পুরাতন, সুস্থ, সবল ও নিরোগ পান গাছ বা বরজ হতে লতা নির্বাচন করতে হবে। বাছাই করা লতা থেকে ৭-৮ মাস পান সংগ্রহ বন্ধ রাখতে হবে। লতা সংগ্রহের ৫-৬ দিন পূর্বে গাছের ডগার দিকে ২-৩ সেমি. ভেঙ্গে দিলে ভাল হয়। পানের লতার উপরের, মাঝের বা গোড়ার যে কোন অংশ কাটিং হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে গোড়ার অংশের তুলনায় উপরের ও মাঝের অংশ হতে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে শিকড় ও কুশি গজাতে পারে।
কাটিং বা চারা শোধন
চারা বা লতা মাটিতে লাগানোর আগে শোধনের জন্য প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম প্রোভ্যাক্স-২০০ বা অটোস্টিন ও এডমায়ার ১ মিলি মিশিয়ে এর জলীয় দ্রবণে ১২-১৫ মিনিট চুবিয়ে শোধন করে নিতে হবে। এর পর লতা ছায়াতে রেখে শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর উক্ত চারাগুলিকে বেডে লাগাতে হবে।
কাটিং বা চারা প্রস্তুতকরণ
২ বছর বয়সের পুরাতন, সুস্থ, সবল ও নিরোগ লতা নির্বাচন করতে হবে। লাতা থেকে কাটিং সংগ্রহ করে ৮-১০ সেমি. গভীর উর্বর মাটিতে বর্ষাকরে ৫০-৬০ সেমি. এবং শরৎকালে ৪০-৫০ সেমি. দূরে দূরে লাগাতে হবে।
পান গাছের কাণ্ডকে ছোট ছোট টুকরায় কেটে চারা তৈরি করতে হবে। প্রতিটি কাটিং লম্বায় ৩০-৪০ সেমি. হতে হবে ও ৩-৫টি (পর্ব) এবং ৩-৪টি পাতা থাকলে ভালো হয়।
পানের লতার উপরের, মাঝের বা গোড়ার যে কোন অংশ কাটিং হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে গোড়ার অংশের তুলনায় উপরের ও মাঝের অংশ হতে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে শিকড় ও কুশি গজাতে পারে।
বীজ লতা হতে সংগ্রহ করে প্রায় ৮০টির মতো কাটিং একত্রে বেঁধে একটি বান্ডিল তৈরি করা হয়। এই বান্ডিলে কাদা মেখে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে। ২-৩ দিনের মধ্যে পর্বসন্ধি হতে নতুন শিকড় বের হলে কাটিং লাগানো যায়।
লতা রোপণের সময়
বছরের যে কোন সময় লতা লাগানো যায়। তবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আশ্বিন-কার্তিক ও ফাল্গুন মাসে লতা লাগানো হলে ভাল ফল পাওয়া যায়। খরিফ মৌসুমে মধ্য ফাল্গুন হতে মধ্য চৈত্র মাসে পানের চারা রোপণ করা হয়। আবহাওয়ার তারতম্য ও অঞ্চল ভেদে চারা রোপণের উপযুক্ত সময়ের তারতম্য হয়। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও নড়াইলে মধ্য ফাল্গুন হতে মধ্য চৈত্র মাসে, যশোরে মধ্য জ্যৈষ্ঠ হতে মধ্য শ্রাবণ মাসে, বরিশালে ও বাগেরহাটে মধ্য জ্যৈষ্ঠ হতে মধ্য আষাঢ় মাসে, পটুয়াখালী আষাঢ় হতে শ্রাবণ মাসে, রাজশাহীতে মধ্য মাঘ হতে মধ্য চৈত্র মাসে, চট্টগ্রামে মধ্য জ্যৈষ্ঠ হতে মধ্য ভাদ্র মাসে, কক্সবাজারে মধ্য শ্রাবণ হতে মধ্য ভাদ্র মাসে পানের কাটিং রোপণ করা হয়।
বীজের পরিমাণ
রোপণ দূরত্ব অনুযায়ী হেক্টরে ৭০ থেকে ৮০ হাজার কাটিং প্রয়োজন হয়। জাত ভেদে শতক প্রতি ৩২০-৪০০ লতা।
কাটিং বা চারা রোপণ
চারা রোপণের পূর্বে দরকার হলে জমিতে সেচ দেওয়া আবশ্যক। লতা থেকে কাটিং সংগ্রহ করে প্রতিটি সারিতে ১৫-২০ সেমি. পরপর একটি করে ৮-১০ সেমি. গভীর গর্ত করতে হবে। প্রতিটি গর্তে বর্ষাকালে ৫০-৬০ সেমি. এবং শরৎকালে ৪০-৫০ সেমি. দূরে দূরে একটি করে কাটিং সারিবদ্ধভাবে লাগাতে হবে। কাটিং সামান্য কাৎ করে (৪৫ ডিগ্রী) অর্ধেক অংশ মাটির ভেতর এবং বাকি অংশ চোখ বা মুকুল মাটির ওপর রাখা হয়। চারা রোপণের পর ঝাঝরি দিয়ে হালকা সেচ দিতে হবে।
রোপণ পরবর্তী পরিচর্যা
রোপণ পরবর্তী যত্নের উপর পানের উৎপাদন ও ফলন নির্ভর করে। রোপণ পরবর্তী যত্নের মধ্যে শূন্যস্থান পূরণ, সার প্রয়োগ, গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার, সেচ ও নিষ্কাশন, লতা নামানো ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
আন্তঃপরিচর্যা/ শূন্যস্থান পূরণ
পানের লতা লাগানোর ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে সতেজ হয়ে উঠে এবং এক মাসের মধ্যে গিরা থেকে অঙ্কুর এবং আগায় নতুন কুশি বের হবে। এ সময় যখন লতা বড় হতে থাকবে তখন নতুন লতা দু’মিটার লম্বা চিকন বাঁশের খুঁটির সাথে বেঁধে দিতে হবে। এছাড়া কাটিং থেকে অনেক সময় অনেকগুলো চারা জন্মে, সেক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় চারা তুলে পাতলা করে দিতে হবে। কাটিং লাগানোর পর যদি কিছু গাছ মারা যায় তাহলে তা সরিয়ে নতুন কাটিং দিয়ে শূণ্যস্থান পূরণ করতে হবে।
সার ব্যবস্থাপনা
কৃষকদের মতে গুণগত মানসম্পন্ন ভাল ফলন পেতে হলে পান চাষের জমিতে জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে।, তাহলে মাটির গুণাগুন ও পরিবেশ ভাল থাকবে। জমি তৈরির সময় সার প্রয়োগ চারা লাগানোর পূর্বে হেক্টরপ্রতি ৮-১০ টন পচা গোবর সার ভালভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
পান বরজে সার প্রয়োগ
পান অধিক মাত্রায় পুষ্টি গ্রহণ করে। সাধারণত খৈল, কোন কোন এলাকায় ইউরিয়া সার দেয়া হয়। কাঠা প্রতি জায়গায় বছরে টিএসপি ৩ কেজি, এমওপি ৩ কেজি, সরিষা বা নিম খৈল ২০ কেজি প্রয়োগ করা যেতে পারে। সার ও খৈল বছরে ৫-৬ টি ভাগে প্রয়োগ করা যেতে পারে। পান গাছের খাবার লতার গোড়ায় দেওয়া যাবে না। ২ সারির মাঝখানে ২ ইঞ্চি খুড়ে খৈল বা রাসায়নিক সার দিতে হবে। খৈল পচিয়ে তারপরে বরজে দিলে গাছ ভাল ভাবে গ্রহণ করতে পারে ও রোগবালাই কম হবে।
সারের মাত্রা
নতুন বরজে সার প্রয়োগের পরিমাণ ও সময়কাল
পুরাতন বরজে সার প্রয়োগের পরিমাণ ও সময়কাল
সেচ প্রদান
পান বরজের মাটিতে সবসময় আর্দ্রতা বজায় রাখতে হবে সেজন্য ঘনঘন হালকা সেচ দিতে হবে। পান ক্ষেতে ভাসিয়ে সেচ দেওয়া যাবে না। শুষ্ক মৌসুমে ৬-৭ দিন পর পর সেচ দিতে হবে। কিন্তু বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে। দিনের প্রথমভাগে সেচ দিতে হবে। সেচ দেয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন আধা ঘণ্টার বেশি পানি জমে না থাকে এবং মাটি পাতাতে ছিটকে না লাগে, না হলে পাতায় রোগাক্রমণ হতে পারে। লতা নামানোর সময় স্বাভাবিকের তুলনায় ঘন ঘন এবং পূর্ণমাত্রায় ফলনশীল অবস্থায় অপেক্ষাকৃত কম সেচ দিন।
আগাছা পরিষ্কার
পানে বিভিন্ন ধরণের জলজ, স্থলজ এবং লতা জাতীয় গাছের আক্রমণ হয়। তাই নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করে সময়মতো আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। সেচ ও সার দেবার পর জো আসা মাত্র নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। খরিফে আগাছা বেশি বাড়ে। বর্ষা মৌসুমে মাসে ১-২ বার আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।
লতা নামানো
সাধারণত পান গাছকে ১-১.৫ মিটারের বেশি লম্বা হতে দেওয়া উচিত নয়। কারণ অতিরিক্ত লম্বা গাছ হতে পান সংগ্রহ করতে সমস্যা হয় এবং গাছের জীবনী শক্তি কমে যায়। লতা নামানোর আগে সংগ্রহ করার যোগ্য সব পান তুলে গোড়ার দিকের পাশ ভেঙ্গে নিতে হবে, যাতে লতা নামানোর পর পাতা মাটিতে না লাগে। নতুবা রোগের আক্রমণ হতে পারে। পানের লতা যখন বরজের ছাউনি পর্যন্ত (২-২.৫ মিটার) পৌছায় তখন তা নিচে নামিয়ে পাতা বিহীন অংশকে গোল করে অথবা বাংলা ৪ এর মতো করে পেচিয়ে মাটি দিয়ে ভালো করে ঢেকে দিতে হবে যাতে লতা আলগা না থাকে। গাছের বৃদ্ধির উপর নির্ভর করে লতা নামাতে হবে। বৃদ্ধি বেশি হলে ঘনঘন নামাতে হবে। আমাদের দেশে বছরে সাধারণত ২ বার (মাঘ-বৈশাখ ও আষাঢ়-আশ্বিন) পানের লতা নামানো হয়। কোন কোন স্থানে ৩-৪ বার লতা নামানো হয়। এতে পান পাতার আকার স্বাভাবিক থাকে এবং ফলনও বেশি পাওয়া যায়।
বরজে মাটি তুলে দেওয়া
আন্তঃপরিচর্যা করার ফলে পান লতার গোড়ার মাটি সরে যায়। এর ফলে শিকড় মাটি থেকে বের হয়ে আসে এবং মাটি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করতে অসুবিধা হয়। এর ফলে লতা ধীরে ধীরে দুর্বল হয় ও রোগবালাই বৃদ্ধি পায়। এ জন্য বছরে ১-২ বার বাহির হতে ঝুরঝুরে মাটি এনে গাছের গোড়ায় দিতে হবে।
সাথী ফসল
পানের সাথে অতিরিক্ত সাথী ফসল হিসেবে পান বরোজেরই পাশে লাউ, কুমড়া, করল্লা, পটল, ডাঁটা ইত্যাদির চাষও বেশ লাভজনক। এ চাষে পানের ক্ষেতে ছায়া সৃষ্টি হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের উপরি রোজগারেরও সুযোগ হয়।
পোকামাকড় ও রোগ ব্যবস্থাপনা
পান চাষের পদ্ধতিও খুব নিবিড়, ব্যয়বহুল এবং শ্রমসাধ্য। অধিক উষ্ণ-আর্দ্র আবহাওয়ায় পান চাষ হয় বলে পোকামাকড় এবং ছত্রাক জাতীয় রোগের উপদ্রব অন্যান্য ফসলের চেয়ে অনেক বেশি।
পোকামাকড়
কালো মাছি: ইহা পান বরজের ক্ষতিকারক পোকা। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে এ পোকা পানের বরজে বেশি দেখা যায়। এই পোকা পাতার নিচে বেশি দেখা যায় । নিম্ন বা বাচ্চা ও পূর্ণবয়স্ক দু অবস্থাতেই পান গাছের ক্ষতি করে। এরা পান পাতার রস চুষে খায়।
সাদা মাছি: এক ধরনের শোষক পোকা। পূর্ণ বয়স্ক মাছি ও তার বাচ্চা পান পাতা ও কচি ডগার রস চুষে খেয়ে ক্ষতি করে। ফাল্গুন মাস হতে বর্ষার পূর্ব পর্যন্ত এর আক্রমণ বেশি হয়।
মিলিবাগ: প্রাথমিক পর্যায়ে পাতায় এবং নরম কা-ে সাদা তুলার মত লক্ষণ দেখা যায়। এরা পাতা ও কান্ডের রস চুষে নেয়, ফলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
সাদা কালো ও লাল মাকড়: মাকড় পান পাতার রস চুষে খায়। এদের খালি চোখে দেখা যায় না। গরম ও বৃষ্টিহীন অবস্থায় এদের আক্রমণ বেশি হয়। মাকড় আক্রমণ করলে পাতায় লাল লাল ফোটা ফোটা দাগ অথবা লম্বালম্বি ভাবে লাল দাগ দেখা যায়। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে এদের আক্রমণ বৃদ্ধি পায়।
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা: আক্রমণের মাত্রা কম হলে আক্রান্ত পাতা তুলে ধ্বংস করতে হবে। বরজের ভিতর ও চারিদিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ২০ লিটার পানির মধ্যে ১ কেজি আধা ভাঙ্গা নিম বীজ ভিজিয়ে রেখে পরে দিন সকালে ঐ পানি স্প্রে করতে হবে। প্রতি লিটার পানির সাথে ৫ মিলি নিম তেল ও ৫ মিলি টিক্স মিশিয়ে পাতায় স্প্রে করতে হবে।
কালো মাছি, সাদা মাছি, মিলি বাগ হলুদ রঙের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাই আঠালো হলুদ রঙের ফাঁদ পেতে এদের দমন করা যেতে পারে। হলুদ ফাঁদ তৈরির জন্য একটি প্লাস্টিকের বৈয়ামের উপরিভাগে মবিল বা অন্য কোন আঠালো পদার্থ মেখে পান বরজে স্থাপন করতে হবে। এর জন্য প্রতি বিঘায় ৭ টি ফাঁদ লাগবে। সাদা কালো ও লাল মাকড় দমনের জন্য বাড়ন্ত অবস্থায় থেকে ১৫ দিন পর পর প্রতি লিটার পানির সাথে ১০ মিলি নিম পাতা বা আতা পাতার নির্যাস ব্যবহার করলে পোকার আক্রমণ কম হয়।
রাসায়নিক দমন ব্যবস্থাপনা: আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে কালো মাছি, সাদা মাছি, মিলি বাগ দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে মেলাথিয়ন (ফাইফানন, মেলাটাফ, মেলাটক্স) ৫৭ ইসি ২ মিলি বা সাইফারমেথিয়ন (রিপকর্ড) ৫৭ ইসি বা ক্লোরপাইরিফস (ডারস্বান) ১ মিলি বা ইমিটাফ বা গেইন ০.৫ মিলি মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। সাদা কালো ও লাল মাকড় আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে প্রতি লিটার পানির সাথে সালফার জাতীয় ছত্রাক নাশক যেমন- থিয়ভিট/কুমুলাক্স/ফাইটোভিট ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে পাতার উপরে ও নিচে স্প্রে করতে হবে। আক্রমণের মাত্রা খুব বেশি হলে প্রতি লিটার পানির সাথে মাকড় নাশক যেমন- ভারটিমেক/ওমাইট/নিউরোন ইত্যাদি ১ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
রোগ ব্যবস্থাপনা
গোড়া/লতা ও পাতা পচা: এই রোগ দ্বারা গাছ বৃদ্ধির সকল পর্যায়ে আক্রান্ত হয়ে থাকে। প্রাথমিকভাবে হঠাৎ ঢলে পড়া এই রোগের লক্ষণ। আক্রান্ত গাছের পাতা হলুদাভ এবং নিচে দিকে ঢলে পড়ে। পাতার উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়। আক্রান্ত গাছ ২ অথবা ৩ দিনে সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে যায়। কান্ড বাদামী, ঝুরঝুরে এবং কাঠির মতো শুকিয়ে যায়। কান্ডের মাটির কাছের অংশে কাল অনিয়মিত ক্ষত দেখা যায়।
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা: প্রতি লিটার পানির মধ্যে ৫০০ মিগ্রা. স্ট্রেপটোসাইক্লিন ও ৫ মিলি বর্দো মিক্সার বা ০.২% রিডোমিল গোল্ড দ্রবণে চারাকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে ও পরে ছায়ায় শুকিয়ে রোপণ করতে হবে। আক্রান্ত লতা পাতাকে সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং শীতের সময় নিয়ন্ত্রিত সেচ দিতে হবে। শীতের সময় মাটির সাথে প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলি বর্দো মিক্সার মিশিয়ে প্রতি হিলে ৫০০ মিলি হারে এক মাস অন্তর অন্তর দিতে হবে। বরজে রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে রিডোমিল গোল্ড বা মিউকোসিল ২ গ্রাম বা সিকিউর ১.৫ গ্রাম মিশিয়ে গাছের গোড়াসহ সমস্ত গাছে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
গোড়া পচা: সকল বয়সের গাছ এই রোগে আক্রান্ত হয়। মূল ও কান্ডে প্রথম আক্রমণ পরিলক্ষিত হয় যা সাদাটে তুলার মতো দেখা যায়। আক্রান্ত কান্ডে পচন ধরে এবং গাছের পাতা ঝরে যায় এবং অবশেষে মারা যায়।
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা: লতা রোপণের পূর্বে প্রতি লিটার পানির মধ্যে ২ গ্রাম প্রভেক্স বা অটোস্টিন মিশিয়ে চারা ৩০-৩৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে ও পরে রোপণ করতে হবে। আক্রান্ত গাছকে মূলসহ তুলে ফেলতে হবে এবং আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। মাটিতে সরিষার খৈল/জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। বরজে রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম কার্বেনডাজিম/ প্রতি লিটার পানির সাথে ১ গ্রাম টিমসেন মিশিয়ে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।
এনথ্রাকনোজ: প্রথম পর্যায়ে পাতায় ছোট, গোলাকার কালো দাগ দেখা যায় যা পরবর্তীতে বৃদ্ধি পায়, চক্রাকার আকার ধারণ করে এবং দাগগুলি হালকা হলুদ দাগ দ্বারা আবৃত থাকে, যেগুলি ২ সেমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাতা ফ্যাকাসে হলুদ হয়ে যায় এবং দাগের মধ্যখানে বড় কালো ফোটা থাকে। একই লক্ষণ কান্ডেও দেখা যায়। রোগের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে কালো দাগ কান্ডকে বেষ্টিত করে রাখে।
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা: আক্রান্ত লতা ও পাতা সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে। পাতা তোলার পর প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম জিরাম বা ৫ মিলি বর্দো মিক্সার বা ০.৫ মিলি টিল্ট বা এমিস্টারটপ ১ মিলি বা ক্যাবরিওটপ ৩ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
পান সংগ্রহ
সময়মতো যত্ন ও পরিচর্যা করলে পানের লতা লাগানোর ৬-৮ মাসের মধ্যে পাতা সংগ্রহ করার উপযুক্ত হয়। প্রতিটি গাছ হতে মাসে ৩-৪ বার পান তোলা যায়। রবি মৌসুমে দেরিতে এবং খরিফ মৌসুমে দ্রুত পান সংগ্রহ করা যাবে। বর্ষাকালে প্রতিটি লতা থেকে সপ্তাহে দু’বার পাকা পাতা সংগ্রহ করা যাবে। রবি মৌসুমে এবং খরার সময়ে নিয়মিত সেচের ব্যবস্থা করতে পারলে পাতা সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানো যাবে। নিচের দিকের পাতা আগে তুলতে হয়। কচি পাতার চেয়ে বয়স্ক, সবুজ পাতার চাহিদা বেশি। বোঁটাসহ পান লতা থেকে হাত দিয়ে ছিঁড়ে সংগ্রহ করতে হবে। বালাইনাশক ছিটানোর কমপক্ষে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে পান পাতা সংগ্রহ করা যাবে না। দূরর্বতী বাজারের জন্য পান পাতা তিন সপ্তাহ ও স্থানীয় বাজারের জন্য দুই সপ্তাহ পর পর সংগ্রহ করা হয়।
পাতার ফলন
আমাদের দেশে গড়ে বছরে হেক্টরপ্রতি ১৬-২০ লক্ষ পান উৎপন্ন হয়। বরজ তৈরির প্রথম বছরে পানের ফলন কম হয়। এবং দ্বিতীয় বছরে ফলন বৃদ্ধি পায়। একই জমিতে ১০-১২ বছরের বেশি সময় পর্যন্ত পান চাষ করা ঠিক নয়।
বাছাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজার সম্ভাবনা
পান সংগ্রহ করার পর বাছাই করে ছোট, কাঁচা, ছেঁড়া, কাটা, পোকা ও রোগে আক্রান্ত পান বাদ দিতে হবে। পানের আকার, খাওয়ার উপযোগী, পুরুত্ব ইত্যাদি অনুযায়ী পান বাছাই করে বোটার অংশ বিশেষ কেটে প্যাকেট করতে হবে। পরিষ্কার করার জন্য পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত পানি ব্যবহার করা হয়। পাতা বেশিক্ষণ সতেজ রাখার জন্য প্যাকিং করার সময় একটু পানি ছিটিয়ে দিতে হবে। পান পচনশীল হওয়ায় পান তুলার পরপরই তা বিক্রি করতে হবে। এভাবে ২-৩ দিন সংরক্ষণ করা যেতে পারে। দেশের পানের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও ব্যাপক হারে পান রপ্তানি হচ্ছে। উন্নত পদ্ধতিতে ভালো জাতের পান চাষ করে তা রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।