লেবাননের চোরাবালিতে ইসরায়েলি বাহিনী: হিজবুল্লাহর 'ফাইবার অপটিক' ড্রোনে দিশেহারা তেল আবিব
নিজস্ব প্রতিবেদক | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবানন সীমান্তজুড়ে এখন এক ভিন্ন যুদ্ধের দামামা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আর কৌশলী সমরবিদ্যার মিশেলে হিজবুল্লাহ এমন এক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, যা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) জন্য রীতিমতো এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর তূণীরের নতুন অস্ত্র ‘ফাইবার অপটিক’ ড্রোন এখন ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। তেল আবিবের অলিতে-গলিতে এখন একটাই প্রশ্ন—ইসরায়েল কি তবে লেবাননের মাটিতে ফের কোনো দীর্ঘমেয়াদী ফাঁদে পা দিল?
দক্ষিণ লেবাননের পাহাড়ি গ্রামগুলোতে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের জন্য প্রতিটি মুহূর্ত এখন চরম উদ্বেগের। হিজবুল্লাহর স্নাইপার আর মাটির নিচে পেতে রাখা শক্তিশালী বিস্ফোরক তো ছিলই, তার সাথে এখন যোগ হয়েছে নিখুঁত নিশানার এই আধুনিক ড্রোন। প্রচলিত ড্রোনগুলো সাধারণত রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা জ্যামিং প্রযুক্তির সাহায্যে অকেজো করা সম্ভব। কিন্তু হিজবুল্লাহর এই নতুন প্রজন্মের ড্রোনগুলো সূক্ষ্ম ফাইবার অপটিক ক্যাবল দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় ইসরায়েলি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা জ্যামিং সিস্টেম এগুলোকে শনাক্তই করতে পারছে না। ফলে অদৃশ্য ঘাতকের মতো এই ড্রোনগুলো ইসরায়েলি বাঙ্কার ও সাঁজোয়া যানে আঘাত হানছে, যা বাড়িয়ে দিচ্ছে হতাহতের মিছিল।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ বলছে, দেশটির সামরিক বাহিনী বর্তমানে একটি ভয়াবহ ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের’ (War of Attrition) কবলে পড়েছে। তেল আবিবের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে এ নিয়ে চলছে তীব্র বাকবিতণ্ডা। সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ২০ বছর আগের সেই ভয়াবহ দখলদারিত্বের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে, যেখানে লেবাননের মাটিতে ইসরায়েল বিপুল পরিমাণ সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম হারিয়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, হিজবুল্লাহ পরিকল্পিতভাবে ইসরায়েলি বাহিনীকে লেবাননের ভেতরে টেনে এনে একটি বিশাল ‘ফাঁদ’ তৈরি করেছে।
বর্তমান বাস্তবতায় ইসরায়েল এখন এক কঠিন দোলাচলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে। একদিকে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসার গ্লানি, অন্যদিকে লেবাননের মাটিতে অবস্থান দীর্ঘায়িত করে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা। সমরবিদদের মতে, ইসরায়েলের সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা—হয় দ্রুত সৈন্য প্রত্যাহার করে একটি যুদ্ধবিরতিতে আসা, না হয় যুদ্ধের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া। তবে দ্বিতীয় পথটি বেছে নিলে পুরো অঞ্চল যে এক ভয়াবহ অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আপাতত হিজবুল্লাহর এই প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব আর গেরিলা কৌশলের সামনে ইসরায়েলি দম্ভ যেন অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে।