অবশেষে কাটছে জট: ৬ মে থেকে চালু হতে পারে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা

 প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

অবশেষে কাটছে জট: ৬ মে থেকে চালু হতে পারে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পথে হাঁটছে নয়াদিল্লি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৬ মে থেকে পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে। শনিবার (২ এপ্রিল) ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এক উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

​সিদ্ধান্তের নেপথ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি

সূত্রমতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও ভিসা সম্পর্কের বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিশিষ্ট কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। থারুর দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক এবং যাতায়াত স্বাভাবিক করার পক্ষে জোরালো মত দিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত আসবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO) থেকে। এক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের বিশেষ প্রতিবেদনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

​কূটনৈতিক তৎপরতা

ভিসা প্রক্রিয়া সহজতর ও স্বাভাবিক করতে সম্প্রতি ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে ঢাকা। গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন। ওই সফরে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ভিসা জটিলতা নিরসন এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

​আশার আলো দেখছেন কলকাতার ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনের খবরে কলকাতার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্রগুলোতে খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পার্ক স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, নিউ মার্কেট ও মারকুইস স্ট্রিট এলাকার হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা প্রাণ ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশি পর্যটকরাই এসব এলাকার ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি। দীর্ঘ সময় ভিসা বন্ধ থাকায় সেখানকার খুচরা ব্যবসা ও চিকিৎসা পর্যটন খাতে বড় ধস নেমেছিল।

​অচলাবস্থার অবসান

করোনা পরবর্তী সময় এবং পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে ভিসা প্রাপ্তিতে বাংলাদেশিরা দীর্ঘ সময় ধরে ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছিলেন। ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হলে শুধু পর্যটন নয়, বরং শিক্ষা ও ব্যবসায়িক কাজে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement