ভবানীপুরে নজিরবিহীন রাজনৈতিক উত্তেজনা: মুখোমুখি লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিজেপি, শেষ দফার ভোটে বাড়তি গুরুত্ব

 প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ভবানীপুরে নজিরবিহীন রাজনৈতিক উত্তেজনা: মুখোমুখি লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিজেপি, শেষ দফার ভোটে বাড়তি গুরুত্ব

ডেক্স নিউজ:

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ পর্যায়ের ভোটকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিভিন্ন আসনে ভোটগ্রহণ চললেও, সব নজর কেন্দ্রীভূত হয়েছে কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটার—সবাই তাকিয়ে আছেন এই হাই-প্রোফাইল লড়াইয়ের দিকে।

ভবানীপুর আসনটি প্রথম গঠিত হয় ১৯৫১ সালে। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে এর সীমারেখা ও পরিচিতি একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে এই আসনটি রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বিশেষ গুরুত্ব অর্জন করে, বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে।

২০১১ সাল থেকে এই কেন্দ্র কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। সেই বছর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন। এরপর ২০১৬ সালেও তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হন।

বর্তমান নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হয়েছেন বিজেপির প্রার্থী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি বিধানসভা আসনের লড়াই নয়, বরং এটি রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মর্যাদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

ভোট প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, ভবানীপুর তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মক্ষেত্রের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি বলেন, ভবানীপুরের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই তার শক্তি।

অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী দাবি করেছেন, পরিবর্তনের পক্ষে জনমত তৈরি হয়েছে এবং ভোটের ফলাফল চমকপ্রদ হতে পারে।

স্থানীয় ভোটারদের একাংশের মতে, এই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হবে। এক ভোটের ব্যবধানও ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ভোটারদের আরেক অংশ আবার উন্নয়ন, নাগরিক পরিষেবা, নিরাপত্তা ও স্থানীয় সমস্যা—এই বিষয়গুলোকেই প্রধান ইস্যু হিসেবে দেখছেন।

এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শাসক শিবিরের দাবি, বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে, অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ভোটের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলার চেষ্টা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, নিয়ম মেনেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

নিরাপত্তার দিক থেকেও ভবানীপুরে বাড়তি নজর রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাহিনী মোতায়েন করে শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

সব মিলিয়ে, ভবানীপুর এখন শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়—এটি হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহের প্রতীক। ফলাফল যাই হোক, এই লড়াই রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement