ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

 প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী—জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি—হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং এতে প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল।

নিহত জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বয়স ছিল ২৭ বছর। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাদের সর্বশেষ দেখা যায়। টানা ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, বৃষ্টিকেও হত্যা করে তার দেহ পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় লিমনের সহবাসী হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল স্থানীয় আদালত তাকে জামিন ছাড়া কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার আগে সন্দেহভাজন ব্যক্তি অনলাইনে মৃতদেহ গোপন, প্রমাণ নষ্ট এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে অনুসন্ধান করেছিলেন। এসব ডিজিটাল তথ্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায়, গত ১৬ এপ্রিল ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। ওইদিন সন্ধ্যার পর থেকে তাদের অবস্থান অজানা হয়ে যায়। একই সময়ে সন্দেহভাজনের মোবাইল অবস্থান ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় শনাক্ত হয় এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী ও বড় ময়লার ব্যাগ কেনার তথ্য পাওয়া যায়।

পরদিন ১৭ এপ্রিল তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। সন্দেহভাজনের চলাফেরায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়, বিশেষ করে গভীর রাতে সেতু এলাকায় যাতায়াত।

২৩ এপ্রিল তদন্তকারীরা একটি আবর্জনা ফেলার স্থান থেকে রক্তমাখা মেঝের চট, পোশাক ও ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধার করেন। ২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকা থেকে একটি ব্যাগে লিমনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয় এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ২৫ ও ২৬ এপ্রিল সন্দেহভাজনকে আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে মৃতদেহ গোপন, প্রমাণ নষ্ট, অবৈধভাবে আটক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ যুক্ত করা হয়। একই সময়ে আরও কিছু মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা বৃষ্টির হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরদার করেছে। প্রাথমিকভাবে তিনি ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা অস্বীকার করলেও পরে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেন।

তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনের পারিবারিক সূত্রে জানতে পেরেছেন, অতীতে তার আচরণে সহিংসতার প্রবণতা ছিল এবং রাগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা ছিল।

এ ঘটনায় ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করছে। আদালত ইতোমধ্যে তাকে জামিন ছাড়া আটক রাখার পাশাপাশি সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

এদিকে, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির পূর্ণ মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রমাণ, নজরদারি চিত্র এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement