ঢাকাকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি করতে বহুমাত্রিক কর্মপরিকল্পনা—বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে জোর
ডেক্স নিউজ:
রাজধানী ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন (ক্লিন) ও সবুজ (গ্রিন) শহরে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার একাধিক সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জাতীয় সংসদে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি উত্থাপিত হলে জানানো হয়, নগর পরিচ্ছন্নতা, সবুজায়ন এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নাগরিক সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম:
সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্কুলার ইকোনমি:
ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোতে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন ও সচেতনতামূলক গ্রাফিতি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
এছাড়া মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে একটি সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদে পরিণত করে “জিরো ওয়েস্ট” লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করা হবে।
সবুজায়ন ও নগর বন সৃষ্টি:
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেস্ট) সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া মেট্রোরেল লাইন (মিরপুর-১২ থেকে মিরপুর ডিওএইচএস) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট)–এর নিচের ফাঁকা জায়গায় বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর উদ্যোগ:
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ডিটিসিএ যৌথভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস এবং ২৫০টি বৈদ্যুতিক বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বায়ুদূষণের প্রধান উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন, অবৈধ ইটভাটা ও নির্মাণজনিত ধূলিকণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকার আশপাশের অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং সাভার উপজেলাকে “ডিগ্রেডেড এয়ারশেড” ঘোষণা করে সেখানে দূষণকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নদী ও খাল দূষণ নিয়ন্ত্রণ:
বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীর পাশাপাশি ঢাকার ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস শনাক্ত করা হয়েছে।
তরল বর্জ্য নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে ইটিপি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। দূষণ পর্যবেক্ষণে রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে।
সমন্বিত সবুজ উন্নয়ন পরিকল্পনা:
বন অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে রাস্তার মিডিয়ান, ইউলুপ, খালের পাড় ও উন্মুক্ত স্থানে বৃক্ষরোপণ ও “জিরো সয়েল” কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত হাজার হাজার ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ রোপণ করা হয়েছে।
সরকারের মতে, এসব সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ধীরে ধীরে ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।