জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকে, ৮–১০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ
ডেক্স নিউজ:
জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকে, ৮–১০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ; কঠোর পদক্ষেপের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের
দেশের বিদ্যুৎ খাতে গভীর সংকটের আভাস মিলছে সর্বত্র। গ্যাস ও জ্বালানির ঘাটতিতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাড়ছে লোডশেডিং, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি, শিল্প ও সাধারণ মানুষের জীবনে। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ, আর সেচকাজ ব্যাহত হওয়ায় ঝুঁকিতে পড়ছে ফসল উৎপাদন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের মোট ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশিরভাগই বর্তমানে গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলের সংকটে ভুগছে। উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বাস্তবে উৎপাদন হচ্ছে গড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মতো। বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিনই ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সংকটকে আরও তীব্র করেছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি গ্রুপ পরিচালিত গোড্ডা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আংশিক উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া। এতে প্রায় ১৪৯৬ মেগাওয়াটের সরবরাহ কমে নেমেছে সাড়ে ৭শ’ মেগাওয়াটে। পাশাপাশি বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ইউনিটটিও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একইসঙ্গে কৃষি খাতেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
এদিকে, গ্রামাঞ্চলে যখন মানুষ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ, তখন রাজধানীতে অবাধ আলোকসজ্জা পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মার্কেট, বিয়ে বাড়ি ও বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের অপচয় কমছে না।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহ কমে বর্তমানে ৮৫ থেকে ৯০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে, যেখানে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন প্রায় দ্বিগুণ। এ অবস্থায় গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অর্ধেকেরও কম উৎপাদন করতে পারছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি; বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, উচ্চব্যয়ের প্রকল্প গ্রহণ এবং অনিয়ম-দুর্নীতির ফলেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি’ আইনের আওতায় অতীতে নেওয়া কিছু প্রকল্প খাতটিকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংকট কাটাতে বিদ্যুৎ খাতের সব বিভাগকে সমন্বিতভাবে সক্রিয় করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একইসঙ্গে পুরোনো নীতি ও কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তারা।