সাতক্ষীরায় এএসআই আবু সুফিয়ানকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ, তদন্ত শুরু: পুলিশ সুপার
খুলনা ব্যুরো :
সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আবু সুফিয়ানকে ঘিরে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি খেসড়া পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অতীতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। গত ৫ আগস্টের একটি ঘটনায় তৎকালীন রাজনৈতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ছাত্র-জনতার ওপর কঠোর আচরণ এবং লাঠিচার্জে অংশ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় কয়েকজন আহত হন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা জানান, মাসুদ কামাল, জিসান হোসেন, রাসেল ও জাহাঙ্গীর আলমসহ একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অর্থ নেওয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।
এছাড়া সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-তে কর্মরত থাকাকালীন নিরীহ যুবকদের বিনা কারণে আটক করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন, জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তার জীবনযাত্রায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে এবং সরকারি আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার বলেন, “উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গোপনীয়ভাবে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত এএসআই আবু সুফিয়ান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।