জনগণের প্রত্যাশা বনাম রাজনৈতিক বাস্তবতা: নতুন সংকটের পদধ্বনি
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা | ০৩ মে, ২০২৬
খুলনার শান্ত সকালটি আজ রাজনৈতিক উত্তাপে বেশ খানিকটা তপ্ত হয়ে উঠেছিল। খুলনা প্রেসক্লাব ব্যাংকুয়েট হলের গুমোট পরিবেশে যখন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বক্তব্য দিতে দাঁড়ালেন, তার প্রতিটি শব্দে ছিল এক ধরণের সতর্কবার্তা। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার, সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি কেবল রাজনৈতিক বিশ্লেষণই করেননি, বরং বর্তমান পরিস্থিতির এক উদ্বেগজনক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।
সেমিনারের আলোচনা শুরু হয় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে। মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে দাবি করেন, বিএনপি বর্তমানে জনগণের রায়কে তোয়াক্কা না করে এক ধরণের স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী আচরণের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তিনি সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন, যে সংকট আজ দেশকে গ্রাস করছে, তার মূলে রয়েছে বিএনপির কর্মকাণ্ড। আর এই সংকটের সমাধানও তাদেরকেই করতে হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ৫ কোটি ভোটারের আবেগ ও অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তার মতে, সংসদে যদি এই গণভোটের রায়ের প্রতিফলন না ঘটে, তবে সেই ক্ষোভ কেবল আলোচনা সভার চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়বে সাধারণ মানুষের মাঝে, যা রাজপথকে আবারও উত্তাল করে তুলতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জনগণের আস্থাহীনতা এবং সামাজিক উত্তেজনার এই চোরাবালি রাষ্ট্রকে গভীর সংকটে নিমজ্জিত করবে।
সেমিনারে উপস্থিত অন্যান্য বক্তাদের কণ্ঠেও ছিল একই সুর। তাদের কথায় উঠে আসে রাজনৈতিক বিভাজনের নেতিবাচক প্রভাবের কথা। প্রয়োজনে ‘আরেকটি জুলাই’ বা বড় ধরণের গণআন্দোলন গড়ে তোলার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতও পাওয়া যায় তাদের বক্তব্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনের রাজনীতির মেরুকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি কেবল একটি সেমিনার নয়, বরং একটি রাজনৈতিক শক্তিমত্তার মহড়ায় পরিণত হয়েছিল। দিনশেষে উপস্থিত সবার মনেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—গণভোটের এই রায় কি আলোর মুখ দেখবে, নাকি দেশ আবারো কোনো বড় সংঘাতের দিকে ধাবিত হবে?