ইরান সংকট ঘিরে তড়িঘড়ি: মধ্যপ্রাচ্যে ৮৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

 প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইরান সংকট ঘিরে তড়িঘড়ি: মধ্যপ্রাচ্যে ৮৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেক্স: 

কংগ্রেসীয় পর্যালোচনা ছাড়াই জরুরি অনুমতি; আকাশ প্রতিরক্ষায় চাপ সামাল দিতে ইসরায়েল-উপসাগরীয় দেশগুলোকে শক্তিশালী করছে ওয়াশিংটনমধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগ ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মিত্র দেশগুলোর কাছে প্রায় ৮৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জরুরি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নিয়মিত কংগ্রেসীয় পর্যালোচনা প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে দ্রুত এই বিক্রির অনুমোদন দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্র প্যাকেজে রয়েছে উন্নত প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম (APKWS), প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আধুনিক ব্যাটল কমান্ড সিস্টেম।

ঘোষণায় বলা হয়েছে—ইসরায়েল পাবে প্রায় ৯৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের APKWS কুয়েত কিনবে ২৫০ কোটি ডলারের ব্যাটল কমান্ড সিস্টেম কাতার প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের প্যাট্রিয়ট সিস্টেম পুনরায় মজুত ও APKWS সংগ্রহ করবে সংযুক্ত আরব আমিরাত পাবে ১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের APKWS ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকির কারণে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে তাদের অস্ত্র মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

এর আগেও চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও জর্ডানের জন্য প্রায় ১৬৫০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল—যা ইঙ্গিত দেয় যে অঞ্চলটিতে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর ধারাবাহিক নীতি অনুসরণ করছে ওয়াশিংটন।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এমন দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত ও প্রস্তুতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতে—বিশেষ করে চীনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য উত্তেজনায়—মার্কিন সামরিক সক্ষমতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, মধ্যপ্রাচ্যে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এক ধরনের ‘কৌশলগত ভারসাম্য’-এর পরীক্ষায় নেমেছে—যেখানে বর্তমান সংকট মোকাবিলা ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির মধ্যে সূক্ষ্ম সমন্বয় বজায় রাখা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement