বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের বরফ গলছে: পূর্ণমাত্রায় ভিসা চালুর পথে দুই দেশ

 প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০২:৩৯ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের বরফ গলছে: পূর্ণমাত্রায় ভিসা চালুর পথে দুই দেশ

ডেক্স নিউজ:

কয়েক মাসের টানাপোড়েন আর অনিশ্চয়তার পর অবশেষে স্বাভাবিকতার দিকে ফিরছে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক। সেই প্রক্রিয়ার প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দুই দেশই ভিসা কার্যক্রম পুরোদমে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। কূটনৈতিক মহলে এটিকে ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং জ্বালানি সহযোগিতার পথ আরও সুগম করতে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। অন্যদিকে ভারতও ধাপে ধাপে তাদের ভিসা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হবে।

গত কয়েক মাসে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান-এর সাম্প্রতিক ভারত সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সফরে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়টি ছিল অন্যতম প্রধান আলোচ্য।

বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। নয়াদিল্লির হাইকমিশন ছাড়াও কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে কনস্যুলার কার্যক্রম চালু আছে। একইভাবে ভারত থেকেও দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর প্রত্যাশা করছে ঢাকা।

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে গত বছরের শেষ দিকে কিছু ভিসা কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হলেও ফেব্রুয়ারি থেকে আবার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর পর থেকে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

এদিকে রাজনৈতিক যোগাযোগও আবার সক্রিয় হতে শুরু করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় এক উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় প্রতিনিধি দল সফর করে, যার নেতৃত্বে ছিলেন ওম বিড়লা। এতে দুই দেশের মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার একটি বার্তা স্পষ্ট হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে মানুষের যাতায়াত, চিকিৎসা, ব্যবসা ও পর্যটনে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ভারতে যান। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের মোট বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশি। ২০২৩ সালে যেখানে প্রায় ২১ লাখ বাংলাদেশি ভারতে গিয়েছিলেন, সেখানে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজারে—যা দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনেরই প্রতিফলন।

তবে এখন পরিস্থিতি বদলানোর ইঙ্গিত মিলছে। ভারতীয় সূত্রগুলো বলছে, ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ না হলেও তা সীমিত আকারে চালু ছিল, যেখানে চিকিৎসা ও জরুরি পারিবারিক ভিসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বর্তমানে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে যাওয়ার কাজ চলছে।

অন্যদিকে, শিগগিরই ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তাঁর আগমনকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশের ভিসা কার্যক্রম আরও দ্রুত গতিতে স্বাভাবিক হবে।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ অচলাবস্থার পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আবারও গতি পাচ্ছে। ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়া শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নই নয়, বরং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, আস্থা ও সহযোগিতার নতুন দুয়ার খুলে দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

Advertisement
Advertisement
Advertisement