কলকাতায় বিজয় মিছিলে বুলডোজার-তণ্ডব! মাংসের দোকান ভাঙার অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি

 প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

কলকাতায় বিজয় মিছিলে বুলডোজার-তণ্ডব! মাংসের দোকান ভাঙার অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট :

লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই তিলোত্তমার বুকে শুরু হলো নতুন বিতর্ক। নিউমার্কেট চত্বরে বিজেপির বিজয় মিছিল চলাকালীন একটি মাংসের দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সরাসরি গেরুয়া শিবিরকে কাঠগড়ায় তুলেছেন।

​ঘটনার সূত্রপাত নিউমার্কেট এলাকায় বিজেপির একটি বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, মিছিলের মাঝেই সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানদের উপস্থিতিতে একটি মাংসের দোকানে বুলডোজার চালানো হয়। ডেরেক ও'ব্রায়েন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পুলিশের অনুমতি নিয়েই এই মিছিল বেরিয়েছিল। আর সেখানেই জয়ের উল্লাস হিসেবে প্রকাশ্য দিবালোকে বুলডোজার দিয়ে দোকান ভাঙা হলো। সারা দুনিয়া দেখুক বিজেপির আসল রূপ।"

​পুলিশের বয়ান ও রাজনৈতিক চাপানউতোর

​যদিও তৃণমূলের এই অভিযোগ পুরোপুরি মেনে নেয়নি কলকাতা পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিজয় মিছিলের অনুমতি থাকলেও সেই মিছিলে বুলডোজার নিয়ে আসার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই তৃণমূল বারবার দাবি করে আসছিল যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করবে এবং মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। পাল্টা জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, বাঙালি মাছ-মাংস ছাড়া থাকতে পারে না। কিন্তু ভোটের পর এই বুলডোজার-কাণ্ড তৃণমূলের হাতে নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

​অশান্তির আবহে কড়া বার্তা শমীকের

​এদিকে ভোট-পরবর্তী হিংসায় হাওড়া থেকে নানুর, বেলেঘাটা থেকে নিউটাউন—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রক্ত ঝরছে। বহু জায়গায় তৃণমূলের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠছে, আবার কোথাও বিজেপি কর্মীদের রক্ত ঝরছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন:

​"কোনো সংঘাতে যদি বিজেপির কোনো কর্মী সরাসরি জড়িত থাকেন, তবে তাকে তৎক্ষণাৎ দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।"

​একইসাথে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তৃণমূলের একটি অংশ বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সদ্য দলবদলু বা স্বঘোষিত বিজেপি কর্মীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তার বার্তা, "দলের রং না দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।"

​কলকাতার এই বুলডোজার-কাণ্ড আপাতত শহরের রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশি তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে, এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী ছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement