আঙ্কারার ‘বজ্রপাতে’ কাঁপছে বিশ্ব: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের এলিট ক্লাবে তুরস্কের রাজকীয় প্রবেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বরাজনীতির দাবার বোর্ডে নতুন এক মহাবিস্ফোরণ ঘটিয়েছে রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের তুরস্ক। আঙ্কারার আকাশে এখন আর শুধু ড্রোনের গুঞ্জন নয়, বরং শোনা যাচ্ছে এক বিধ্বংসী গর্জনের প্রতিধ্বনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তুরস্ক উন্মোচন করেছে তাদের প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) — ‘ইলদিরিমহান’। তুর্কি শব্দ ‘ইলদিরিমহান’-এর অর্থ ‘বজ্রপাতের রাজা’। আর এই নামকে সার্থক করে আঙ্কারার প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে যখন দানবীয় এই ক্ষেপণাস্ত্রটি জনসমক্ষে আনা হয়, তখন কার্যত থমকে গিয়েছিল সমর বিশেষজ্ঞদের হিসাবনিকাশ।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনের মতো হাতেগোনা কয়েকটি দেশের দখলে থাকা এই প্রযুক্তি এবার তুরস্কের করায়ত্ত। এর পাল্লা বা রেঞ্জ প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার। এর অর্থ হলো, আঙ্কারায় বসে একটি বোতাম টিপলেই ইউরোপ, এশিয়া বা আফ্রিকার যেকোনো প্রান্ত নিমিষেই ধূলিসাৎ করে দিতে সক্ষম এরদোয়ানের এই নতুন অস্ত্র। তবে এর পাল্লার চেয়েও বেশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে এর অবিশ্বাস্য গতি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ইলদিরিমহান’ শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি গতিতে (Mach 25) লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধাবিত হতে পারে। বর্তমান বিশ্বে এমন কোনো শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হয়নি, যা এই গতির দানবকে মাঝপথে রুখে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
তুরস্কের এই সমর সক্ষমতার পেছনের কারিগর হিসেবে আবারও সামনে এসেছেন দেশটির সামরিক মাস্টারমাইন্ড সেলচুক বায়রাক্তার। ‘সাহা-২০২৬’ প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে তিনি কেবল এই ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, বরং একঝাঁক নতুন প্রজন্মের কামিকাজে ড্রোনও উন্মোচন করেছেন। এগুলো দলবদ্ধভাবে বা ‘সোয়ার্ম’ আকারে আক্রমণ চালিয়ে যেকোনো আধুনিক রাডার ব্যবস্থাকে অন্ধ করে দিতে পারে। বায়রাক্তারের এই উদ্ভাবন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সামরিক প্রযুক্তির জন্য তুরস্ক এখন আর পশ্চিম বা পূর্ব—কারও মুখাপেক্ষী নয়।
ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই উন্নয়নকে দেখা হচ্ছে এক বিশাল ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, তখন তুরস্কের এই পেশিশক্তি প্রদর্শন ওয়াশিংটন থেকে তেহরান পর্যন্ত সবার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। রাশিয়ার সারমাত বা উত্তর কোরিয়ার হোয়াসং-২০ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা হয়তো আরও বেশি, কিন্তু তুরস্কের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এই স্বাধীন শক্তি অর্জন আঙ্কারাকে বিশ্ব নেতৃত্বের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
কেবল আক্রমণ নয়, নিজের সীমানাকে দুর্ভেদ্য করতেও পিছপা হয়নি তুরস্ক। জানা গেছে, দেশটির চারপাশ জুড়ে ১৫০টি পৃথক কম্পোনেন্টের সমন্বয়ে তৈরি বিশাল ‘স্টিল ডোম’ বা ইস্পাত ঢাল মোতায়েন করা হচ্ছে। এটি তুরস্ককে একইসাথে বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত এবং আক্রমণাত্মক দেশে পরিণত করবে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের শেষ দিকে সোমালিয়ার উপকূলে এই ক্ষেপণাস্ত্রের চূড়ান্ত পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তুরস্কের।
এই ঘটনা কি কেবলই সামরিক শক্তিবৃদ্ধি, নাকি মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের নতুন কোনো সংকেত? ড্রোন দিয়ে বিশ্বজয়ের পর তুরস্কের এই আইসিবিএম মিশন এখন সেই প্রশ্নই বড় করে তুলছে আন্তর্জাতিক মহলে। আঙ্কারার এই নতুন ‘বজ্রপাত’ যে আগামী দিনে বিশ্ব কূটনীতির সমীকরণ বদলে দেবে, তা নিয়ে এখন আর কোনো সংশয় নেই।