​চার বছরের অবহেলায় ছড়াচ্ছে হাম: দায় এড়াতে পারে না বিগত সরকার— স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

​চার বছরের অবহেলায় ছড়াচ্ছে হাম: দায় এড়াতে পারে না বিগত সরকার— স্বাস্থ্যমন্ত্রী

​নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

দেশের স্বাস্থ্যখাতের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনা ও বিগত সরকারের উদাসীনতার চড়া মাশুল দিতে হচ্ছে বর্তমান প্রজন্মকে। সময়মতো টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করায় দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (১১ মে) সকালে আকস্মিক বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কড়া মন্তব্য করেন।

​সকাল থেকেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগ ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী প্রতি চার বছর অন্তর দেশে হামের প্রতিষেধক টিকা সংগ্রহ এবং বড় আকারের ক্যাম্পেইন পরিচালনা করার কথা। কিন্তু বিগত সরকারগুলো রহস্যজনক কারণে এই দীর্ঘ সময়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের এক বিশাল অংশ এই জীবনরক্ষাকারী টিকার আওতার বাইরে থেকে গেছে। মূলত এই প্রশাসনিক ও নীতিগত ব্যর্থতার কারণেই আজ হাম মহামারি বা তীব্র রূপ ধারণ করেছে।

​তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করলেও আশার কথা শুনিয়েছেন মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে টিকা আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। ইতোমধ্যে টিকাদান কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হওয়ায় সংক্রমণের হার ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। মন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, "আমরা দিনরাত কাজ করছি শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে। খুব দ্রুতই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে।"

​বিগত সময়ের ভ্যাকসিন কেনাকাটায় কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি ছিল কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কিছুটা কৌশলী অবস্থান নেন। তিনি বলেন, "এখন আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে শিশুদের জীবন রক্ষা করা। তদন্ত করার জন্য সামনে অনেক সময় পাওয়া যাবে, কিন্তু বর্তমানের সংকট মোকাবিলাই এখনকার মূল চ্যালেঞ্জ।" তিনি আরও যোগ করেন, টিকাদানের পর শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হতে অন্তত চার সপ্তাহ সময় লাগে। এছাড়া শিশুদের মধ্যে বিদ্যমান অপুষ্টির সমস্যাটি হামের প্রকোপ বাড়াতে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

​বরিশালবাসীর জন্য একটি সুখবর দিয়ে মন্ত্রী জানান, স্থানীয় শিশু হাসপাতালটি আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। এর ফলে এই অঞ্চলের শিশুদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হবে।

​পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় জসীম মাতুব্বর নামে এক ডায়াগনস্টিক টেকনিশিয়ানকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

​দিনের শেষ ভাগে মন্ত্রী বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নির্মাণাধীন ক্যান্সার ও কিডনি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের গুণমান বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement