ঈদুল আজহায় প্রস্তুত দেশ: ১ কোটি ২৩ লাখ পশু ও ৩৮ হাজার প্রশিক্ষিত কসাইয়ের ‘মেগা প্ল্যান’

 প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

ঈদুল আজহায় প্রস্তুত দেশ: ১ কোটি ২৩ লাখ পশু ও ৩৮ হাজার প্রশিক্ষিত কসাইয়ের ‘মেগা প্ল্যান’

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির প্রস্তুতিতে এবার ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। কেবল পশুর জোগান নিশ্চিত করাই নয়, বরং নিরাপদ মাংস উৎপাদন এবং দেশের অমূল্য সম্পদ ‘চামড়া’ রক্ষায় গ্রহণ করা হয়েছে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, এবার পশুর চাহিদার তুলনায় জোগান অনেক বেশি, আর সেই সাথে প্রস্তুত রয়েছেন হাজার হাজার দক্ষ কসাই।

দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় বাঁচবে চামড়া

প্রতিবছর সঠিক পদ্ধতির অভাবে বিপুল পরিমাণ কোরবানির চামড়া নষ্ট হয়, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় ক্ষতি। এই ক্ষতি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে সরকার। অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে ৩৮ হাজার ৩৬২ জন ব্যক্তিকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫,৪৪৪ জন পেশাদার কসাই এবং ২২,৯১৮ জন মৌসুমী বা অপেশাদার কসাই রয়েছেন।

বিভাগীয় পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পেশাদার কসাই প্রশিক্ষণে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বরিশাল (৩,৪৭৯ জন), আর মৌসুমী কসাইদের দক্ষ করায় শীর্ষে ঢাকা বিভাগ (৪,৩২৪ জন)। পশুর চামড়া ছাড়ানো এবং এর সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে এই প্রশিক্ষিত বাহিনী মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকবে।

চাহিদার চেয়ে বেশি পশুর জোগান

পশু সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। চলতি বছর সারা দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

বিভাগীয় বিশ্লেষণে দেখা যায়:

রাজশাহী: ১৮ লাখ ৭০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত নিয়ে তালিকার শীর্ষে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম: নিজস্ব উৎপাদনে সামান্য ঘাটতি থাকলেও পার্শ্ববর্তী বিভাগগুলোর উদ্বৃত্ত পশু দিয়ে এই চাহিদা অনায়াসেই পূরণ হবে।

খামার থেকে তদারকি: নিরাপদ মাংসের নিশ্চয়তা

ক্রেতারা যাতে সুস্থ ও স্টেরয়েডমুক্ত পশু কিনতে পারেন, সেজন্য ৬৭ হাজার ৩৬৬টি খামার পরিদর্শন করেছেন ভেটেরিনারি চিকিৎসকরা। এর মধ্যে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৭টি এবং ঢাকায় ১৪ হাজার ৬৫৩টি খামার পরিদর্শন করে খামারিদের প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৯ লাখ ১৬ হাজারের বেশি খামারে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার গরু-মহিষ এবং ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ছাগল-ভেড়া কোরবানির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

জনসচেতনতায় ব্যাপক তোড়জোড়

কেবল কারিগরি প্রশিক্ষণই নয়, সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সারা দেশে ২,৬৬৩টি সচেতনতামূলক সভা করেছে অধিদপ্তর। এতে অংশ নিয়েছেন মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার ছাত্র, জনপ্রতিনিধি ও চামড়া ব্যবসায়ীরা। এছাড়া সঠিক পদ্ধতিতে পশু জবাই ও চামড়া ছাড়ানোর নিয়ম সম্বলিত ২ লাখ ৮৮ হাজার পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এবার একদিকে যেমন চামড়ার গুণমান বজায় থাকবে, অন্যদিকে খামারিরা তাদের পশুর নায্য মূল্য পাবেন এবং ভোক্তারা পাবেন নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস।

Advertisement
Advertisement
Advertisement