জনগণের সেবক হওয়াই শেষ কথা: পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

জনগণের সেবক হওয়াই শেষ কথা: পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হল আজ এক ভিন্নধর্মী গাম্ভীর্যের সাক্ষী হলো। পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের এক বিশেষ সম্মেলনে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ক্ষমতার দাপট ভুলে জনসেবায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষণের মূল সুর ছিল— “ক্ষমতা বা পদ; কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়।”

পরিবর্তনের ছোঁয়া ও পদের নশ্বরতা

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতার শুরুতেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার পালাবদল এবং পদের অস্থায়ী প্রকৃতি নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি প্রশাসনের কোনো পদই কারো জন্য চিরকাল সংরক্ষিত থাকে না। আমরা আজ এখানে আছি, কাল নাও থাকতে পারি। এটি কেবল রাজনীতির ক্ষেত্রে নয়, প্রশাসনের সর্বস্তরের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, যারা নিজেদের অনিবার্য ভেবেছেন, সময় তাদের ভুল প্রমাণ করেছে। পৃথিবীর সব দেশেই এটি ধ্রুব সত্য। তাই পদের অহংকার না করে জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়াটাই বড় সাফল্য।”

পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব পুলিশিং

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা দেন যে, পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু, ভয়ের কারণ নয়। তিনি বলেন:

আইনের শাসন: অপরাধী যেই হোক, আইন যেন তার নিজস্ব গতিতে চলে। রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা: পুলিশ প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করতে হবে। আস্থার প্রতীক: থানায় আসা প্রতিটি মানুষ যেন ন্যায়বিচার পাওয়ার ভরসা নিয়ে ফিরতে পারে।

দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “কারো ব্যক্তিগত অপকর্মের দায়ভার সরকার বা পুরো বাহিনী নেবে না। পদ চিরস্থায়ী নয় মনে রাখলে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করার সাহস পাবে না।”

আগামীর বাংলাদেশ ও পুলিশের ভূমিকা

২০২৬ সালের পরিবর্তিত বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীকে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি পুলিশ বাহিনী চাই যা কেবল দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও উদাহরণ হবে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কোনো বিকল্প নেই।

সম্মেলনে উপস্থিত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের আত্মোপলব্ধির আবহ লক্ষ্য করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশাসনের সংস্কার ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি সুসংহত করার একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

মনে রাখবেন, আপনি আজ যে চেয়ারে বসে আছেন, সেখানে গতকাল অন্য কেউ ছিলেন এবং আগামীকাল অন্য কেউ আসবেন। মাঝখানের এই সময়টুকুতে আপনি মানুষের জন্য কী করলেন, সেটিই আপনার পরিচয় হয়ে থাকবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement