ঈদ বাজারে স্বস্তির সমীরণ: টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলে মিলবে সুলভ পণ্য

 প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

ঈদ বাজারে স্বস্তির সমীরণ: টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলে মিলবে সুলভ পণ্য

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে এবং সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের বাজারের উত্তাপ কমাতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। আগামীকাল সোমবার (১১ মে) থেকে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম। তবে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের অস্থিরতার প্রভাবে এবার সরকারি এই ট্রাকসেলেও সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের পকেটে খানিকটা চাপ তৈরি করতে পারে।

​রোববার টিসিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আগামীকাল রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—কোরবানির ঈদের আগে চিনি, ডাল ও তেলের মতো অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিকল্প বাজারের ব্যবস্থা করা।

​ট্রাকের দীর্ঘ সারি আর স্বস্তির আশা

​পবিত্র ঈদের আগে যখন বাজারের প্রতিটি অলিগলিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস শোনা যাচ্ছে, তখন সারা দেশে ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাক নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ২১ মে পর্যন্ত টানা দশ দিন (শুক্রবার ব্যতীত) এই ট্রাকগুলো থেকে পণ্য কিনতে পারবেন যেকোনো সাধারণ ভোক্তা। প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ জন মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করার সুযোগ পাবেন।

​তবে এবারের কার্যক্রমে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো সয়াবিন তেলের দাম। বাজারের সাথে সমন্বয় করে টিসিবির ট্রাকেও তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দাম বাড়লেও বাজারের সাধারণ খুচরা মূল্যের চেয়ে এটি এখনো যথেষ্ট সাশ্রয়ী বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ট্রাকে প্রতি কেজি চিনি পাওয়া যাবে ৮০ টাকায় এবং মসুর ডাল মিলবে ৭০ টাকা দরে। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২ লিটার তেল, ১ কেজি চিনি এবং ২ কেজি ডাল কেনার সুযোগ পাবেন।

​শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে সেবা

​টিসিবির এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল রাজধানী কেন্দ্রিক নয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকা মহানগরী ও জেলায় ৫০টি এবং চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০টি ট্রাক পণ্য সরবরাহ করবে। এছাড়া দেশের বাকি ছয়টি বিভাগীয় শহর ও জেলাগুলোতে ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬টি জেলায় ১০টি করে ট্রাক নিয়োজিত থাকবে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার ভোক্তা এই সরাসরি ট্রাকসেল থেকে উপকৃত হবেন।

​অন্যদিকে, কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত ভর্তুকি মূল্যের বিক্রয় কার্যক্রমও এর পাশাপাশি সমান্তরালে চলবে। আসন্ন কোরবানি ঈদ উপলক্ষে প্রায় ৭২ লক্ষ কার্ডধারী পরিবারের জন্য মে মাসে প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ মেট্রিক টন পণ্য বরাদ্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত পণ্যের পরিমাণ ও মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে, যা প্রান্তিক মানুষের জন্য এক বড় স্বস্তি।

​বাজার নিয়ন্ত্রণে এক বড় ঢাল

​বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে টিসিবির এই ব্যাপক উপস্থিতি খোলা বাজারে পণ্য মজুতদারদের দৌরাত্ম্য কমাতে সাহায্য করবে। যখন চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকে, তখন সরকারি এই ট্রাকগুলো সাধারণ মানুষের জন্য একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। যদিও তেলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নবিত্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, তবুও ডাল ও চিনির দামে টিসিবির অবস্থান বাজারের তুলনায় অনেক বেশি সহনশীল।

​আগামীকাল সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাকের পেছনে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। উৎসবের আগে স্বল্পমূল্যে বাজারের থলেটি ভরে বাড়ি ফেরার স্বস্তিই এখন লক্ষ লক্ষ মানুষের কাম্য। সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ কতটা সফলভাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement