জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর পুলিশ: বিশৃঙ্খলায় ‘জিরো টলারেন্স’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

 প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর পুলিশ: বিশৃঙ্খলায় ‘জিরো টলারেন্স’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হল তখন কানায় কানায় পূর্ণ। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে দাঁড়িয়ে এক জোরালো কিন্তু দিকনির্দেশনামূলক বার্তা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর কথায় ফুটে উঠল একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক আধুনিক, মানবিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ বাহিনীর প্রতিচ্ছবি। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ডের প্রশ্নে কোনো আপস নেই; কেউ যদি এই গণ্ডি অতিক্রম করে, তবে তাকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

​সোমবারের এই সম্মেলনটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং ছিল আগামীর পুলিশিংয়ের একটি নীল নকশা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পুলিশ সদস্যদের মনে করিয়ে দেন যে, তাঁদের পোশাকটি কেবল ক্ষমতার প্রতীক নয়, বরং তা রাষ্ট্রীয় সেবকের দায়িত্বের নামান্তর। তিনি বলেন, থানা হবে মানুষের আশ্রয়ের শেষ ভরসাস্থল। সেখানে আসা কোনো সেবাপ্রার্থী যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা পুলিশের পবিত্র দায়িত্ব। ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’—এই স্লোগানটি কেবল দেয়ালের দেয়ালে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

​বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল পুলিশের আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা। মন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজপথে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বিশেষ অপারেশন—সবখানেই বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। প্রতিটি পদক্ষেপ যেন রেকর্ড থাকে এবং তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। মানবাধিকারের বিষয়টি যে বর্তমান বিশ্বে কতটা স্পর্শকাতর, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধ দমনে ন্যূনতম বলপ্রয়োগের কৌশল রপ্ত করতে হবে। অপরাধীদের ধরতে হবে মেধা ও কৌশলে, ক্ষমতার অপব্যবহারে নয়।

​প্রথাগত পুলিশিংয়ের ধারণা বদলে দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ একটি চমৎকার রূপক ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, ‘রোগী মরিয়া যাইবার পরে ডাক্তার আসিল’—এই তত্ত্বে বিশ্বাস করে ট্র্যাডিশনাল পুলিশিংয়ে আটকে থাকলে চলবে না। এখন সময় রিঅ্যাক্টিভ নয়, বরং প্রোঅ্যাক্টিভ বা ‘প্রিভেন্টিভ’ পুলিশিংয়ের। অর্থাৎ অপরাধ হওয়ার পর দৌড়ঝাঁপ না করে, সঠিক গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধ সংগঠনের আগেই তা রুখে দিতে হবে। বিশেষ করে সাইবার জগতের অপরাধ ও গুজব দমনে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

​মাদক, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের ডাক দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিট পুলিশিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে পাড়া-মহল্লায় কোনো অপরাধীর আস্তানা টিকে থাকতে পারবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হলে ব্যক্তিগত সততা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই হবে।

​সবশেষে তিনি টুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশিংয়ের বহুমুখী চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বাহিনীর কর্মকর্তাদের উজ্জীবিত করেন। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একথাই স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকার এমন একটি পুলিশ বাহিনী গড়তে বদ্ধপরিকর যারা হবে প্রযুক্তিতে দক্ষ, আচরণে মানবিক এবং শৃঙ্খলার প্রশ্নে অবিচল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement