কন্যাশিশুর স্বপ্নে রাষ্ট্র হবে অদম্য শক্তি: ডা. জুবাইদা রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের কারিগর আজকের কন্যাশিশুরা। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানবিক বিকাশ ঘটানো এবং প্রতিটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করতে রাষ্ট্র হবে সবচেয়ে বড় ঢাল ও সহায়ক শক্তি। সোমবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে এমন প্রত্যয়দীপ্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "মেয়েরা যে স্বপ্ন নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ গড়তে চায়, রাষ্ট্র সেই পথে কোনো বাধা নয় বরং শক্তি হয়ে পাশে দাঁড়াবে।"
স্বপ্নের সারথি হবে রাষ্ট্র
ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর বক্তব্যে নারী ও কন্যাশিশুদের সামাজিক অবস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে রাষ্ট্রের ভূমিকা হবে অভিভাবকের মতো। তিনি বলেন, "রাষ্ট্রব্যবস্থা মেয়েদের চলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পরিবর্তে বরং তাদের এগিয়ে নেওয়ার মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততার সাথে কাজ করি, তবে একটি সুন্দর ও কাঙ্ক্ষিত সমাজ গঠন করা অবশ্যই সম্ভব, ইনশা-আল্লাহ।"
তৃণমূল উন্নয়নে নারীর ভূমিকা
স্বাস্থ্যসেবা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে নারীই থাকেন। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে নারীরা যেভাবে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও ক্ষুদ্র অর্থনীতিকে সচল রাখছেন, তা দেশের সামগ্রিক জিডিপিতে নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছে।
নারীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে যোগ্য নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিপণন বা মার্কেটিং সাপোর্ট নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের নারীদের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি যোগ করেন যে, একজন নারী যখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হন, তখন পরিবারে সচ্ছলতা আসে, সন্তানদের উন্নত শিক্ষার পথ প্রশস্ত হয় এবং পর্যায়ক্রমে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ত্বরান্বিত হয়।
মেধাবীদের হাতে আগামীর মশাল
অনুষ্ঠানের শুরুতে ডা. জুবাইদা রহমান পুনাকের বহুমুখী সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ওপর নির্মিত একটি বিশেষ তথ্যচিত্র উপভোগ করেন। এরপর তিনি রাজধানীর শহীদ পুলিশ স্মৃতি স্কুল অ্যান্ড কলেজের একঝাঁক মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে মেধা সনদ ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "তোমাদের এই মেধাই হবে আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের মূল ভিত্তি।"
অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি
পুনাক সভানেত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিণী হাসিনা আহমেদ এবং সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা। এছাড়া পুনাকের সহ-সভানেত্রী মিসেস সাবিনা আওলাদ পুনাকের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহধর্মিণীগণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে ডা. জুবাইদা রহমান পুনাকের হস্তশিল্প প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।