হত্যা মামলার ৬ আসামি গ্রেফতার হলেও পাঁচ মাসে উদ্ধার হয়নি লুটের মালামাল
খুলনা ব্যুরো :
খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার তিন খুনের আলোচিত মামলায় সাত আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেফতার হলেও এখনো উদ্ধার হয়নি হত্যাকাণ্ডের সময় লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি আসামিকে গ্রেফতার ও লুটের মালামাল উদ্ধার হলে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর লবণচরা এলাকায় নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় একই পরিবারের তিনজনকে। নিহতরা হলেন— নানী মহিতুন্নেছা (৫৩), নাতি মুস্তাকিম (৮) ও নাতনি ফাতিহা (৬)। ঘটনার দিন বাড়ির মুরগির খামার থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত দুই শিশুর বাবা সেফার আহমেদ মুন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তার মামাতো ভাই শামীম শেখকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে শামীম।
পুলিশ জানায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, জমির দলিল দখলের উদ্দেশ্যে বাড়িতে হামলা চালিয়ে হত্যার পর দলিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, প্রায় ১৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা লুট করা হয়।
মামলার বাদী সেফার আহমেদ বলেন, প্রধান আসামি গ্রেফতার হলেও এখনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার হয়নি। তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
খুলনা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রুহুল আমিন জানান, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে এবং এ পর্যন্ত ছয়জন আসামি গ্রেফতার হয়েছে। দু’জন আসামি আদালতে অপরাধ স্বীকার করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লবণচরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইউসুফ মোল্লা বলেন, বাকি একজন আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।