কয়রায় মৌবাক্সভিত্তিক মধু চাষে নতুন সম্ভাবনা

 প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৯:০৩ অপরাহ্ন   |   খুলনা

কয়রায় মৌবাক্সভিত্তিক মধু চাষে নতুন সম্ভাবনা

খুলনা ব্যুরো :

খুলনার কয়রা উপজেলা ও সুন্দরবনসংলগ্ন নদীপাড় এলাকায় মৌবাক্সভিত্তিক মধু চাষ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনের ভেতরে গিয়ে মধু সংগ্রহের পরিবর্তে এখন স্থানীয় মৌচাষিরা আধুনিক পদ্ধতিতে বনের পাশেই নিরাপদভাবে মধু উৎপাদন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীতীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামে বেশ কয়েকজন যুবক ও কৃষক মৌবাক্স স্থাপন করে নিয়মিত মধু সংগ্রহ করছেন। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ফুল ও পরিবেশের কারণে এসব এলাকার মধুর মান ভালো হওয়ায় বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে।

বানিয়াখালী গ্রামের নদীপাড়ে সরেজমিনে দেখা যায়, সাতক্ষীরা থেকে আসা মৌচাষিদের একটি দল অস্থায়ীভাবে অবস্থান করে মৌবাক্স পরিচালনা করছেন। তাঁদের মোট ৪০০টি মৌবাক্সের মধ্যে ১২০টি সেখানে রাখা হয়েছে। তীব্র রোদ থেকে মৌমাছিকে রক্ষায় বাক্সগুলোর ওপর খড় ও চট দিয়ে ছাউনি দেওয়া হয়েছে।

মৌচাষিরা জানান, মৌমাছিরা নদী পেরিয়ে সুন্দরবনের ভেতরে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত গিয়ে ফুল থেকে মধুর রস সংগ্রহ করে। সম্প্রতি তাঁরা প্রায় তিন মণ মধু সংগ্রহ করেছেন। সুন্দরবনে কেওড়া ফুল ফোটা শুরু হওয়ায় উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।

মৌচাষি রিফাত হোসেন বলেন, ৪০০টি মৌবাক্স পরিচালনায় বছরে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয় হলেও গত বছর প্রায় ১৪ লাখ টাকা আয় হয়েছে। তবে ফুলের মৌসুম না থাকলে মৌমাছিকে চিনি খাইয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। প্রতিটি বাক্সে রানী মৌমাছি থাকা জরুরি বলেও তিনি জানান।

শাকবাড়িয়া নদীর তীরবর্তী মঠবাড়ি গ্রামেও একইভাবে মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে চাক থেকে মধু আলাদা করে আবার চাক বাক্সে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, ফলে মৌমাছিরা পুনরায় মধু সংগ্রহ করতে পারে।

কয়রার কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীন বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সুন্দরবনের ওপর চাপ কমাচ্ছে এবং মৌয়ালদের ঝুঁকিও হ্রাস করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, মৌবাক্সভিত্তিক মধু চাষ স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করছে এবং এটি একটি নিরাপদ ও টেকসই বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement