দৌলতপুর কলেজে পরিচালনা পরিষদ নিয়ে বিরোধ, দুই দিনে দুই দফা তালা
খুলনা ব্যুরো :
খুলনার বেসরকারি দৌলতপুর (দিবা-নৈশ) কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দুই দিনে দুই দফা কলেজে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে আগামী মাসের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিতরণ ও ডিগ্রির ফরম পূরণের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কলেজ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি করা হয় জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মাসুদ হোসেন রনিকে। পরে ২০২৫ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত নতুন বিধিমালায় সভাপতির জন্য ন্যূনতম স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক হওয়ায় তিনি ওই পদে থাকতে পারেননি। এরপর ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মো. জয়নাল আবেদীনকে সভাপতি করা হয়।
জয়নাল আবেদীনের নিয়োগের বিরুদ্ধে মাসুদ হোসেন রনি উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত নতুন নিয়োগের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে আপিল বিভাগ ওই আদেশ স্থগিত করলে জয়নাল আবেদীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।
গত ১৬ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাডভোকেট শেখ মাসুদ হোসেন রনিকে কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেয়। তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন। তবে ওই মনোনয়নের বিরুদ্ধে জয়নাল আবেদীন হাইকোর্টে রিট করলে আদালত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠির কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ দেন। ফলে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় জয়নাল আবেদীনই সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ অবস্থায় পরিচালনা পরিষদকে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র হলে গত বুধবার প্রথমে মাসুদ হোসেন রনির সমর্থকেরা কলেজে তালা দেন। পরে জয়নাল আবেদীনের পক্ষ তালা খুলে কলেজের কার্যক্রম চালু করে এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দেয়। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে আবারও মাসুদ হোসেন রনির অনুসারীরা কলেজে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় সশস্ত্র মহড়ার অভিযোগও ওঠে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. মোরাদুল ইসলাম বলেন, কলেজে তালা দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। পরে অপর পক্ষ থানায় এলেও সংঘর্ষের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ এ এস এম আনিসুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি একটি মতবিনিময় সভায় থাকায় ফোন ধরেননি।