ঘুষের মামলায় সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিয়ন হির সাত বছরের কারাদণ্ড
আন্তর্জাতিক ডেক্স নিউজ:
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিয়ন হিকে ঘুষের বিনিময়ে বিলাসবহুল উপহার গ্রহণের দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার কাছে থাকা অবৈধভাবে প্রাপ্ত মূল্যবান উপহার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের দেওয়া রায়ে বলা হয়, কিম কিয়ন হি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছ থেকে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে দামি উপহার গ্রহণ করেছিলেন।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক জো সুন-পিয়ো বলেন, রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণীর পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে সর্বোচ্চ সততা, সংযম ও দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশিত। কিন্তু কিম তার প্রভাব ব্যবহার করে একাধিকবার মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেছেন, যা জনআস্থার পরিপন্থী।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত করা হবে ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আরপেলসের হীরার নেকলেস, টিফানির ব্রোচ, ডিওরের হ্যান্ডব্যাগ, সোনার কচ্ছপের অলংকার সংরক্ষণ বাক্স এবং শিল্পী লি উফানের একটি চিত্রকর্মসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।
রায় ঘোষণার সময় ধূসর রঙের স্যুট ও সাদা মাস্ক পরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন কিম। তিনি উপহার গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করেন, এর বিনিময়ে কাউকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়নি। গত বছরের আগস্টে গ্রেপ্তারের পর থেকেই একাধিক মামলায় তার বিচার চলছে।
রায়ের পর কিমের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই বিস্তৃত ব্যাখ্যার ভিত্তিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তারা উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এর আগে পৃথক একটি মামলায় ইউনিফিকেশন চার্চ থেকে উপহার গ্রহণ এবং শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে লাভবান হওয়ার অভিযোগে আপিল আদালত কিমকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল।
বিশেষ কৌঁসুলির অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে সিওহি কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান লি বং-কোয়ানের কাছ থেকে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ ওন মূল্যের হীরার নেকলেস ও অন্যান্য গয়না গ্রহণ করেন কিম। এর বিনিময়ে চেয়ারম্যানের জামাতার জন্য সরকারি পদ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে আদালত অভিযোগটি প্রমাণিত বলে রায় দেন। একই মামলায় চেয়ারম্যান লি বং-কোয়ানকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তা দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া আদালত আরও কয়েকটি ঘুষের অভিযোগও প্রমাণিত বলে উল্লেখ করেন। এসবের মধ্যে রয়েছে রোবোটিক কুকুর প্রকল্পে সরকারি সহায়তার আশায় দেওয়া দামি ঘড়ি, সরকারি প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্তির প্রত্যাশায় এক পাদ্রির দেওয়া ডিওরের হ্যান্ডব্যাগ এবং সরকারি নিয়োগে তদবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া সোনার কচ্ছপের মূর্তি, ঐতিহ্যবাহী চিত্রকর্ম ও প্রায় ১৪ কোটি ওন মূল্যের শিল্পকর্ম গ্রহণ।
একই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনকে আদালত স্থগিত কারাদণ্ড এবং একজনকে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।
এদিকে ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট পদ হারান ইউন সুক ইওল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ঘটনায় অভিশংসিত হওয়ার পর তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। বর্তমানে বিদ্রোহ, সামরিক আইন জারি এবং উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগসহ একাধিক মামলার বিচার চলছে। বিদ্রোহের মামলায় দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্য একটি মামলায় ৩০ বছরের সাজার বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন।
ইউনের উত্তরসূরি প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ক্ষমতায় আসার পর সামরিক আইন জারি এবং সাবেক প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে একাধিক বিশেষ তদন্তের অনুমোদন দিয়েছেন।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট।