ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্প: মৃত ১৬৪, নিখোঁজ সাত হাজারের বেশি
আন্তর্জাতিক ডেক্স নিউজ:
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী
জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৯৭১
জন। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এখনো ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট
দেলসি রদ্রিগেজ সর্বশেষ হতাহতের এই তথ্য প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় পরপর ৭ দশমিক ২
ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলাকে কাঁপিয়ে দেয়। ভূতাত্ত্বিক
ও আবহাওয়াবিদদের মতে, গত শতাধিক বছরের মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর
অন্যতম এটি। এর কম্পন রাজধানী কারাকাসসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে অনুভূত হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে উপকূলীয়
লা গুয়াইরা রাজ্য। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় অঞ্চলটিকে ‘দুর্যোগ এলাকা’ ঘোষণা করেছে
সরকার। বহু বহুতল ভবন ধসে পড়ায় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে ধসে
পড়া একটি ভবনের নিচ থেকে তিন শিশুকে জীবিত উদ্ধার করার দৃশ্য দেখা গেছে। ধুলোমাখা অবস্থায়
উদ্ধার হওয়া শিশুদের ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তবে এখনও বহু মানুষ
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে বিরোধী নেতাদের উদ্যোগে
একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। কারাকাস সময় রাত ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সেখানে
৭ হাজার ৩৮১ জনকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। একই তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
এক্সেও প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে,
বিরোধী শিবিরের অনেক নেতা বর্তমানে নির্বাসনে থাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে
যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় আন্তর্জাতিক
মানবিক সংস্থাগুলো কার্যক্রম জোরদার করেছে। আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, বেঁচে যাওয়া মানুষদের
জরুরি চিকিৎসা ও ত্রাণ সহায়তা দিতে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড
ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা রেড ক্রস জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা
নিশ্চিত করতে তাদের হাসপাতাল ও পলিক্লিনিক নেটওয়ার্ক সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়েছে।
এদিকে মূল ভূমিকম্পের পর থেকে একের পর এক শক্তিশালী অনুকম্পন অনুভূত হচ্ছে। ফলে উদ্ধারকর্মী ও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে এবং পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নে সময় লাগবে।