আগামীকাল পবিত্র আশুরা: কারবালার আত্মত্যাগ স্মরণে দেশজুড়ে ধর্মীয় আয়োজন

 প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ন   |   ধর্মীয় জীবন

আগামীকাল পবিত্র আশুরা: কারবালার আত্মত্যাগ স্মরণে দেশজুড়ে ধর্মীয় আয়োজন


আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র আশুরা, হিজরি ১৪৪৮ সনের মহররম মাসের ১০ তারিখ। মুসলিম বিশ্বের কাছে দিনটি ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার স্মৃতিবিজড়িত হওয়ায় এ দিনটি শোক ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, ৬১ হিজরির ১০ মহররম (৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) ইরাকের কারবালা প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীরা সত্য, ন্যায় ও ইসলামের মূল আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শাহাদাত বরণ করেন। অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তাঁদের এই আত্মত্যাগ মানবজাতির জন্য চিরন্তন প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। তাঁরা বাণীতে আশুরার শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

দিবসটি উপলক্ষে দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম আশুরার তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় আলোচনা, কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও শোকাবহ পরিবেশে দিবসটি পালন করবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল, শোকসভা ও অন্যান্য ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

ধর্মীয় বিশ্লেষক ও ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কারবালার ঘটনা কেবল একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নয়; এটি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার শিক্ষা যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আসছে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ বারান্দায় ‘আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আ. ছালাম খান। প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব আলহাজ মাওলানা মো. মহিউদ্দিন। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ।

অন্যদিকে, রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিল ও শোকানুষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে তাজিয়া মিছিলে ১২ ফুটের বেশি উচ্চতার নিশান বহন না করা, ধারালো অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ, লাঠি, ছুরি, তরবারি বা অনুরূপ সামগ্রী বহন থেকে বিরত থাকা, উচ্চ শব্দের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার না করা এবং আতশবাজি কিংবা পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২৬ জুন সকাল ১০টা থেকে তাজিয়া মিছিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত সড়কগুলোতে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর থাকবে। এ সময় যানজট এড়াতে এবং মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নগরবাসীকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।

পবিত্র আশুরার চেতনা সত্য, ন্যায়, আত্মত্যাগ ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা বহন করে। এই শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলিত হলে একটি আরও ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


Advertisement
Advertisement
Advertisement