আল-মাখায় হুতিদের ফের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, নিহত ১১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের আল-মাখা (মোখা) বন্দরনগরীতে ফের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতিরা। ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় চলমান হামলার অংশ হিসেবে চালানো এই অভিযানে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যায় সর্বশেষ হামলা চালানো হয়। এর ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে আল-মাখা শহর ও এর বাণিজ্যিক বন্দরে হুতিদের আরেক দফা হামলা হয়েছিল।
ইয়েমেন সরকারের বাহিনী জানিয়েছে, নতুন করে চালানো হামলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছয়টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত না হেনে সাগরে পড়ে যায়।
হুতিদের ঘনিষ্ঠ টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাসিরাহ সম্প্রচারিত ভিডিওতে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেখা গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, ওই এলাকায় অবস্থানরত সৌদি সেনাদের সমাবেশ ও অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
নিহত ১১, আহত ৩২
রোববার দিনের শুরুতে আল-মাখায় চালানো হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে আটজন সামরিক সদস্য এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিক। এ ঘটনায় আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে এএফপির সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
হামলায় আল-মাখা বন্দরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইয়েমেনের সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরের কয়েকটি ভবন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, বন্দর অবকাঠামোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক পণ্য ও খাদ্যসামগ্রীরও ক্ষতি হয়েছে।
সরকারি বাহিনী আরও জানিয়েছে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি চালকবিহীন নৌযান বাণিজ্যিক বন্দরের দিকে এগিয়ে আসার সময় সেটিও শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
রোববার রাতে নতুন করে হামলা শুরুর পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মিত্র ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস আল-মাখার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানায়। হুতিদের নির্বিচার গোলাবর্ষণের অভিযোগও করেছে তারা।
সৌদি সামরিক তৎপরতাকে দায়ী করল হুতিরা
হুতিদের দাবি, বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও তাইজ প্রদেশে সৌদি আরবের সামরিক তৎপরতা বাড়ানো এবং মিত্র বাহিনীকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে শক্তিশালী করার প্রতিক্রিয়ায় হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হুতিদের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিজাম আল-আসাদও দাবি করেছেন, বন্দরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ, আগুন ও ধোঁয়ার কারণ সেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম মজুত থাকা।
আল-খোখাতেও হামলা
আল-মাখার বাইরেও হামলা ছড়িয়ে পড়েছে। উপকূলীয় শহর হোদেইদার দক্ষিণে আল-খোখা জেলাকেও লক্ষ্য করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য তারেক সালেহর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস-ঘনিষ্ঠ আল-জুমহুরিয়া টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার আল-খোখা জেলায় হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হোদেইদার সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নর আল-হাসান তাহেরের বাসভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে তিনি হামলা থেকে বেঁচে গেছেন।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতে হুতিরা দেশটির রাজধানী সানা ও উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তাদের মিত্ররা দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। আল-মাখা ও হোদেইদার মতো লোহিত সাগর উপকূলীয় অঞ্চলগুলো কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আলজাজিরা