সংবাদ শিরোনাম

কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, জেলেনস্কিকে এরদোয়ানের বার্তা

 প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, জেলেনস্কিকে এরদোয়ানের বার্তা ছবি- সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে রাশিয়া ও ইউক্রেনের হামলাকে ‘ব্যাখ্যাতীত’ বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে এসব হামলা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন এরদোয়ান।

বৈঠকে এরদোয়ান বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ যেন স্থায়ী শান্তির মাধ্যমে শেষ হয়, সে জন্য তুরস্ক সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্রস্তুত। সরাসরি আলোচনা আবার শুরু করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখবে আঙ্কারা।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলেছে, কৃষ্ণসাগরে নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কোনো ব্যাখ্যা নেই এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে দুই পক্ষকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

ন্যাটো সদস্য তুরস্ক ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন অভিযান শুরুর পর থেকেই মস্কো ও কিয়েভ-দুই পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রেখেছে। কৃষ্ণসাগরে হামলা বন্ধের জন্যও দেশটি বারবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।

তুরস্কের জাহাজেও হামলা

আঙ্কারা জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের বিষয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন-দুই দেশকেই প্রস্তাব দিয়েছে তারা। তুরস্কের মালিকানাধীন কিছু জাহাজও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং এতে তুরস্কের নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে আঙ্কারা জানিয়েছে।

তুরস্ক বলেছে, এ বিষয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে নিরাপদে শস্য পরিবহন চালু রাখতে একটি সমাধান খুঁজে বের করার ওপর জোর দিয়েছে দেশটি।

এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত ‘ক্রিমিয়া প্ল্যাটফর্ম’ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেছিলেন, কৃষ্ণসাগরে সামুদ্রিক যুদ্ধবিরতিতে যেতে কিয়েভ প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে মিসর, ভারত ও তুরস্কের দেওয়া প্রস্তাবগুলো ভিত্তি হিসেবে নেওয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান।

শস্য সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে চাপ

কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে গম সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার শীর্ষ আমদানিকারক দেশগুলো ইতিমধ্যে গম সংগ্রহে সমস্যায় পড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও; বিশ্ববাজারে গমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও ইউক্রেনীয় শস্য নিরাপদে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালের জুলাইয়ে ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ’ নামে একটি চুক্তি হয়েছিল।

তবে পরের বছর রাশিয়া ওই চুক্তি থেকে সরে যায়। মস্কোর অভিযোগ ছিল, রাশিয়ার খাদ্য ও সার রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুতর বাধা তৈরি করা হচ্ছিল।

রাশিয়া-ইউক্রেনের সঙ্গে তুরস্কের ভারসাম্য

ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে কিয়েভকে সামরিক সহযোগিতাও দিয়েছে তুরস্ক। তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেয়নি আঙ্কারা। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও বজায় রেখেছে দেশটি।

এর আগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার কয়েকটি পর্ব তুরস্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুদ্ধের অবসানে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়ে আসছে আঙ্কারা।

এরদোয়ান ও জেলেনস্কির সর্বশেষ বৈঠকে তাই কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা, শস্য পরিবহন এবং যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনার বিষয়গুলোই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সূত্র: আরব নিউজ