সংবাদ শিরোনাম

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আগে ইরানের বাগদাদ-মাসকাট ফ্লাইট বাতিল

 প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আগে ইরানের বাগদাদ-মাসকাট ফ্লাইট বাতিল ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই ইরান থেকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদ ও ওমানের রাজধানী মাসকাটগামী সব ফ্লাইট বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বুধবার নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে, মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকেই এসব ফ্লাইট বন্ধ থাকবে।

ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার এক মুখপাত্র তাসনিমকে বলেছেন, বাগদাদগামী ফ্লাইটগুলোকে ইরাকের নাজাফ বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। অর্থাৎ বাগদাদের বদলে নাজাফে বিমান নামানোর মাধ্যমে অন্তত ওই রুটটি সচল রাখার চেষ্টা করছে তেহরান।

ইরানের আরেক সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, মাসকাটের সঙ্গে বিমান চলাচল নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে ইস্তাম্বুলসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে বলে জানানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার জানিয়েছেন, বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানের সব বিমান সংস্থাকে কার্যত অচল করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিমান চলাচল-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ইরানের কোনো বিমান যখন কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ করবে, তখন তাকে জ্বালানি, অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা বা টিকিট বিক্রির সুবিধা দেওয়া যাবে না। কেউ এসব সেবা দিলে তাকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের সাত মাসের মাথায় ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত করার সর্বশেষ পদক্ষেপ এটি। মার্কিন সরকারের এই উদ্যোগে ইরানের বিমান চলাচল খাত সরাসরি চাপের মুখে পড়েছে।

আকাশসীমা বন্ধ নয়, তবু বিমান চলাচল থামানোর চাপ

বিমান চলাচল বিশ্লেষকেরা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ার সরাসরি ক্ষমতা নেই। তবে বিমানকে সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং অন্যান্য স্থানীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে একই ধরনের ফল পাওয়া সম্ভব। কারণ এসব সেবা ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করা কঠিন।

চলতি মাসের শুরুতেই ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস বা ওএফএসি। নতুন ব্যবস্থায় বাণিজ্য, জ্বালানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এর আগে আগস্টের শেষ দিকেও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার আওতা বাড়ায় ট্রাম্প প্রশাসন। তখন ইরানের সঙ্গে জাহাজ চলাচল, প্রযুক্তি, সোনা এবং ডিজিটাল সম্পদ নিয়ে ব্যবসা করা বিদেশি কোম্পানিগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়।

নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়লেও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি তেহরান। শনিবার ইরান জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছাতে কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসতে তারা এখনো প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ইরানের বক্তব্যে কঠোর অবস্থানও বজায় রয়েছে।

ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাই গত সপ্তাহে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান যে শর্ত দিয়েছে, তা মেনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই হবে। তাঁর ভাষায়, ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো ফল আসবে না। ইরান ‘নির্ণায়ক যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে বাগদাদ ও মাসকাটের ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তাৎক্ষণিক প্রভাব আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগেও পড়তে শুরু করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ এখন একদিকে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো বিকল্প বিমানবন্দরের মাধ্যমে চালু রাখার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ওমানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতার পথ খুঁজছে।

সূত্র: আলজাজিরা