সিরিয়ায় রুশ ঘাঁটি নিয়ে মস্কোর সঙ্গে চুক্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটিতে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে মস্কোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে দামেস্ক। নতুন ব্যবস্থার আওতায় হমেইমিম বিমানঘাঁটি ও তারতুস নৌঘাঁটি যৌথ প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হবে।
সিরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা সানা রোববার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দুই পক্ষের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে নতুন ব্যবস্থার অধীনে ঘাঁটি দুটির কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করা হবে।
প্রায় দেড় বছর ধরে চলা আলোচনার পর সমঝোতা স্মারকটি সই হয়েছে। সানা জানিয়েছে, ঘাঁটি দুটির বর্তমান ব্যবস্থা থেকে নতুন ব্যবস্থায় রূপান্তরের কাজ সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে ঘাঁটি দুটির বেসামরিক স্থাপনাগুলো দামেস্কের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে সমঝোতার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আলোচনা চলাকালীনও হমেইমিম ও তারতুস ঘাঁটির কার্যক্রম চালু ছিল।
দামেস্ক থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ওবাইদা হিত্তো বলেন, সমঝোতাটি অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে। তবে সিরিয়ার সরকার এর মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, সিরিয়ার ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত সব সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রয়েছে।
তাঁর মতে, এর মধ্য দিয়ে দামেস্ক এটিও স্পষ্ট করছে যে সিরিয়ার জাতীয় সার্বভৌমত্ব কোনো আলোচনার বিষয় নয়।
রোববার সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি ঘাঁটি দুটি পরিদর্শন করেন। সানা জানিয়েছে, ‘ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে’ অন্তর্ভুক্ত স্থাপনা ও অবকাঠামোর অবস্থা দেখতে তিনি সেখানে যান।
আসাদ আমলে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি
সিরিয়ার ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে রাশিয়া ছিল আসাদের অন্যতম প্রধান মিত্র। সামরিক সহায়তা দিয়ে মস্কো সাবেক প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
২০২৪ সালে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ায় রাশিয়ার প্রভাব বড় ধাক্কা খায়। এরপর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সিরিয়ার নতুন নেতা আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেন। এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরে রাশিয়ার একমাত্র দুটি আনুষ্ঠানিক সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।
দামেস্কের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি অনেকটা কমেছে। আল জাজিরার সাংবাদিক হিত্তোর হিসাবে, একসময় সিরিয়ায় রাশিয়ার ১০০টির বেশি সামরিক ঘাঁটি ও অবস্থান ছিল। এখন মূলত এই দুটি ঘাঁটিই টিকে আছে।
হিত্তো বলেন, দুই পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য শর্তে ঘাঁটি দুটির কার্যক্রম নতুনভাবে সাজানো হলে সিরিয়ায় রাশিয়া কী ধরনের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে, তা আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও স্পষ্ট হবে।
পুতিন-শারার সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
ক্ষমতায় আসার পর সিরিয়ার নতুন সরকারও মস্কোর সঙ্গে সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে। শারা ক্ষমতা নেওয়ার পর পুতিন তাঁকে দুইবার মস্কোতে স্বাগত জানিয়েছেন।
জানুয়ারিতে শারার সর্বশেষ মস্কো সফরের সময় পুতিন বলেন, দুই দেশের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনে ‘অনেক কাজ হয়েছে’। সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধারে শারার প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি।
শারা পাল্টা সিরিয়া ও পুরো অঞ্চলে রাশিয়ার ‘ঐতিহাসিক ভূমিকার’ প্রশংসা করেন।তবে দুই দেশের সম্পর্ক পুরোপুরি মসৃণ নয়। দামেস্ক দীর্ঘদিন ধরে মস্কোর কাছে বাশার আল-আসাদকে সিরিয়ার কাছে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর স্ত্রীকে নিয়ে আসাদ মস্কোতেই আশ্রয় নিয়েছেন।
সূত্র: আলজাজিরা