খুলনায় জাতীয় নগর নীতি–২০২৫ নিয়ে আলোচনা ---- জলাবদ্ধতা ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত নগর পরিকল্পনার বিকল্প নেই

 প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন   |   খুলনা

খুলনায় জাতীয় নগর নীতি–২০২৫ নিয়ে আলোচনা  ----  জলাবদ্ধতা ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত নগর পরিকল্পনার বিকল্প নেই

খুলনা ব্যুরো :

দ্রুত নগরায়নের চাপে বাংলাদেশের শহরগুলো যখন আবাসন সংকট, অবকাঠামোগত চাপ, পরিবেশ দূষণ ও সামাজিক বৈষম্যের মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন জাতীয় নগর নীতি–২০২৫ দেশের নগর উন্নয়নের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহনশীল নগর গঠনে এ নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে খুলনার গুরুত্ব যেমন বাড়ছে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন ও নগর দারিদ্র্যের মতো সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে খুলনা নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় নগর নীতি–২০২৫: শহর পর্যায়ের অবহিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর কারিগরি সহায়তায় কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “জাতীয় নগর নীতি–২০২৫ শুধু একটি নীতিমালা নয়, এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নগর উন্নয়নের একটি রূপরেখা। এ নীতির সফল বাস্তবায়নে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সব অংশীজনের সমন্বিত ও কার্যকর অংশগ্রহণ প্রয়োজন।”

কর্মশালায় অংশ নেওয়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা বিবেচনায় নীতিমালাটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। তাঁরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নগর পরিকল্পনায় অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতির চর্চা এবং শহরভিত্তিক অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, নগর উন্নয়নে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান, স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনা এবং বহুপক্ষীয় সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় নগর নীতি–২০২৫ দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের ক্লাইমেট অ্যান্ড লাইভলিহুড অ্যাডভাইজার ও ডেপুটি টিম লিডার এবিএম ফিরোজ আহমেদ, কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন এবং কুয়েটের ইউআরপি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোরশেদ মনজুর। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএনডিপির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাকিল আখতার। জাতীয় নগর নীতির সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন ইউএনডিপির প্রজেক্ট অ্যানালিস্ট এস এম আবদুল্লাহ আল মাসুম।

সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, নগর পরিকল্পনাবিদ, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে কর্মশালাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আলোচনায় উঠে আসে—ভবিষ্যতের নগরগুলোকে বাসযোগ্য, নিরাপদ ও জলবায়ু সহনশীল করতে হলে এখনই সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

Advertisement
Advertisement
Advertisement