খুলনাকে মাদক মুক্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়ে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস পালিত
খুলনা ব্যরো :
‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাই মিলে এগিয়ে আসি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে খুলনায় বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল পৌনে ৯ টায় শহীদ হাদিস পার্ক প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা এবং রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যান্ড প্রটোকল, অতিরিক্ত দায়িত্বে অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, পিপিএম-সেবা বলেন, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালন তখনই অর্থবহ হবে, যখন এর মূল বার্তা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, মাদক প্রতিরোধে শুধু একটি দিবস পালন নয়, বরং বছরজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো মানুষ জন্মগতভাবে মাদকাসক্ত হয়ে জন্ম নেয় না। পারিবারিক অবহেলা, অসচেতনতা, খারাপ সঙ্গ এবং সামাজিক পরিবেশের কারণে অনেকেই মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাই সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না, কার সঙ্গে চলাফেরা করছে এবং তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পরিবারের সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সন্তানদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; তারা মোবাইলের মাধ্যমে কী দেখছে এবং কী শিখছে, সেদিকেও অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের আবদারের পরিপ্রেক্ষিতে দামী মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার আগে তাদের চলাফেরা ও বন্ধু-বান্ধব সম্পর্কে খোঁজ রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।
মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ জনগণেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক-সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করলে মাদক নির্মূলে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস) শেখ জয়নুদ্দীন, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ, সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, বিপিএম-সেবা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়, খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক মো. হাসানুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষকবৃন্দ।