রামপুরা মানবতাবিরোধী মামলার রায় আজ, বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার

 প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

রামপুরা মানবতাবিরোধী মামলার রায় আজ, বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার

অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীর রামপুরায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ রোববার ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা ও সদস্য এ মামলার আসামি। পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি পঞ্চম রায়। রায়ের সম্পূর্ণ কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করবে।

গত ১৫ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করেন। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

পাঁচ আসামির মধ্যে রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্য চার আসামি পলাতক। তারা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান এবং সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এর আগে গত ৪ মার্চ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন ডিজিটাল আলামত হিসেবে উপস্থাপন করলে রায় স্থগিত করা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আদালতে জানান, ভিডিওটি আসল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়নি। ওই ভিডিওতে চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে গুলি করার কথা স্বীকার করতে শোনা যায় বলে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে।

পরবর্তীতে গত ১০ জুন চঞ্চল চন্দ্র সরকার পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দিয়ে আদালতে দাবি করেন, গ্রেফতারের পর ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি থানায় হেফাজতে থাকা অবস্থায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা তাকে নির্দিষ্ট বক্তব্য দিতে চাপ দেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজি না হওয়ায় তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় এবং মানসিক চাপে ওই ভিডিওতে বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়।

তবে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আদালতে হাজির করার আগে নিয়ম অনুযায়ী চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে চঞ্চল চন্দ্র সরকার নির্দোষ। তারা তার নিঃশর্ত মুক্তি প্রার্থনা করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করা, শিশু বাসিত খান মুসার মাথা ভেদ করে গুলিতে তার দাদি মায়া ইসলামের মৃত্যু এবং মো. নাদিম নামে আরেক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। সর্বশেষ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানায়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement