নির্যাতিত তৃণমূল নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে বিশেষ বাজেট বরাদ্দের দাবি শামা ওবায়েদের
রিপোর্টার:
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নির্যাতনের শিকার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা নেতাকর্মীদের জন্য জাতীয় বাজেটে পৃথক বরাদ্দ রাখা সময়ের দাবি।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত
বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
শামা ওবায়েদ বলেন, গত প্রায় দেড় দশকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে
বহু তৃণমূল নেতাকর্মী রাজনৈতিক কারণে নির্যাতন, হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
তাদের অনেকেই এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের
পুনর্বাসনে সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি কোনো অবাস্তব
পরিকল্পনা নয়; বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা, জনগণের প্রয়োজন এবং উন্নয়ন
অগ্রাধিকারের সমন্বয়ে প্রণীত একটি জনকল্যাণমুখী বাজেট।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ
বাজেটকে ‘চ্যালেঞ্জিং’ বা ‘দিবাস্বপ্ন’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও সরকার এটিকে
বাস্তবায়নের সক্ষমতা রাখে। তার ভাষায়, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ইতিহাসই প্রতিকূলতা
অতিক্রমের ইতিহাস এবং বর্তমান সরকারও অর্থনীতি পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রীয়
প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার কঠিন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, একটি জাতীয় বাজেট শুধু রাজস্ব ও ব্যয়ের হিসাব
নয়; এটি সরকারের রাজনৈতিক দর্শন ও উন্নয়ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এবারের বাজেট
মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদ্ভাবননির্ভর এবং নারী-সহায়ক বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ বলে
তিনি মন্তব্য করেন।
বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ওয়ান স্টপ সার্ভিস সম্প্রসারণ,
ব্যাংকিং খাত সংস্কার, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায়
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কৃষি খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে শামা ওবায়েদ জানান, ১২
লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৫
লাখের বেশি প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ এবং
কৃষক কার্ড কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে ই-হেলথ কার্ড চালু, বিভিন্ন বিভাগে
শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা খাতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল
ইউনিফর্ম ও মিড-ডে মিল কর্মসূচি এবং প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা
সম্প্রসারণের মতো উদ্যোগ দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের সুযোগ সম্প্রসারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সংযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংস্কার, ইলেকট্রিক বাস ও
নারী-শিশুবান্ধব পিংক বাস চালুসহ স্থানীয় সরকার খাতে বরাদ্দকে তিনি জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ
হিসেবে উল্লেখ করেন।
সরকারি ঋণ গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজার থেকে নেওয়া ঋণ
ভোগব্যয়ের জন্য নয়; বরং উৎপাদনশীল খাত ও কৌশলগত বিনিয়োগে ব্যবহার করা হবে। তার
মতে, দেশের ঋণের পরিমাণ এখনো মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় সহনীয় পর্যায়ে
রয়েছে।
এ
সময় তিনি জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখার উদ্যোগকেও স্বাগত
জানান।