ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

 প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন   |   খুলনা

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী




মাসুদ আল হাসান, খুলনা:

খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত গোড়া ঢাংমারী ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। দীর্ঘদিনের অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত পরিবেশের প্রভাবে বিদ্যালয়টির একতলা ভবনটি এখন মারাত্মকভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিনই আতঙ্ক নিয়ে শ্রেণিকক্ষে বসতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির চার কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি ২০০১ সালে নির্মিত হয়। বর্তমানে ভবনের ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুঁইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। গরমের সময়ও হঠাৎ করে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৫১ জন। প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করাতেও আগ্রহ হারাচ্ছেন অভিভাবকেরা।

সহকারী শিক্ষক বিশিকা রায় বলেন, ভবনের অবস্থা দিন দিন খারাপ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে। সহকারী শিক্ষক সবুজ মল্লিক বলেন, ভবনের এমন অবস্থা দেখে অনেক অভিভাবক সন্তানকে ভর্তি করাতে চান না। ছাদ থেকে যখন-তখন পলেস্তারা খসে পড়ে, বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস, সুলাহিমান চালিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাস চলাকালে ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে বই-খাতা ভিজে যায়। বিদ্যালয়ের শৌচাগারের অবস্থাও নাজুক।

প্রধান শিক্ষক বিপুল কুমার মণ্ডল বলেন, ২০১৯ সালে যোগদানের পর থেকেই ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের মাঝামাঝি নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের জন্য আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। একটি প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়ের কিছু সংস্কারকাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন আবেদন পেলে তা এডিপি বা পিইডিপি-৫ প্রকল্পের আওতায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement