মেলোনি ও ট্রাম্পের প্রকাশ্য বিরোধ মেটানো কঠিন হচ্ছে

 প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

মেলোনি ও ট্রাম্পের প্রকাশ্য বিরোধ মেটানো কঠিন হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইতালি ও আমেরিকার শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যকার সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির 'ব্রেক-আপ' বা সম্পর্কচ্ছেদের নানা এআই-নির্মিত ব্যঙ্গাত্মক ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধের প্রতি ইঙ্গিত করে। একসময় মেলোনিকে ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র ভাবা হলেও, গত কয়েক মাসে তাঁদের সম্পর্ক পারস্পরিক আক্রমণ ও ব্যক্তিগত অপমানে রূপ নিয়েছে।


২০২৫ সালের শুরুতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে মেলোনির অগ্রণী উপস্থিতি এবং ইউরোপীয় শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছিল। তবে ট্রাম্পের খামখেয়ালি আচরণের কারণে এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। গত মার্চ মাসে সাংবিধানিক নিয়ম ও জনগণের আপত্তির মুখে মধ্যপ্রাচ্যগামী মার্কিন সামরিক বিমানকে ইতালির সিসিলির সিগোনেলা বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় প্রথম ফাটল ধরে।

পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনামূলক মন্তব্যের পর ক্যাথলিকপ্রধান ইতালির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেলোনি একে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেন। এতে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প মেলোনিকে সাহসহীন বলে কটাক্ষ করেন। এরপর ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে তাঁদের বৈঠক ইতিবাচক মনে হলেও, পরে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন মেলোনি তাঁর সাথে ছবির জন্য 'অনুনয়' করেছিলেন। এর জবাবে মেলোনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, ট্রাম্পের এই দাবি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং ইতালি কখনো কারও কাছে অনুনয় করে না।

এই ঘটনার পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তাঁর ওয়াশিংটন সফর বাতিল করেন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলাসহ রাজনৈতিক মহল ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানায়। এই রেষারেষি কাটতে না কাটতেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-তে ইতালির বিমানঘাঁটি ব্যবহারের দাবি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। ন্যাটোর তৎকালীন প্রধান মার্ক রুট-এর এমন দাবির তীব্র বিরোধিতা করে ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা কেবল কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তার অনুমতি দিয়েছিল, কোনো প্রত্যক্ষ সামরিক অভিযানের নয়।


দেশের অভ্যন্তরে সাংবিধানিক গণভোটে পরাজয় এবং আগামী বছরের নির্বাচনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মেলোনির জন্য এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ করা বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্পের 'বন্ধু নয়তো শত্রু' নীতির কারণে এই কূটনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। আগামী মাসে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনে এই দুই নেতা আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, যেখানে তাঁদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র: বিবিসি

Advertisement
Advertisement
Advertisement