বইয়ের তথ্যে গোপনীয়তা লঙ্ঘন: দোষ স্বীকার করলেন জন বোল্টন

 প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

বইয়ের তথ্যে গোপনীয়তা লঙ্ঘন: দোষ স্বীকার করলেন জন বোল্টন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন নিজের লেখা বইয়ের জন্য সংরক্ষিত ডায়েরিতে গোপন তথ্য রাখার দায় স্বীকার করেছেন। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপন নথি অবহেলা ও নিয়মের বাইরে ব্যবহারের অভিযোগে শুক্রবার আদালতে নিজের অপরাধ মেনে নেন তিনি। 

ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত বোল্টনের বিরুদ্ধে প্রথমে ১৮টি অভিযোগ আনা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি একটি সুনির্দিষ্ট ধারায় দোষ স্বীকার করেন। বিচারকের সামনে নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করে বোল্টন জানান, সংবেদনশীল তথ্য পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য।

এই অপরাধের কারণে জন বোল্টনের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে। এছাড়া শাস্তি হিসেবে তাকে ১০০ ঘণ্টা সামাজিক সেবা করতে হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে গোপন নথির বিষয়ে বিস্তারিত জবাবদিহি করতে হবে। 

আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এই ঘটনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বোল্টনের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন অ্যাটর্নি কেলি হেইস আদালতের বাইরে গণমাধ্যমকে বলেন, বোল্টন রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার গুরুত্ব জানা সত্ত্বেও দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন।

অন্যদিকে বোল্টনের আইনজীবী আবে লোয়েল এক বিবৃতিতে দাবি করেন, তার মক্কেল প্রকৃত নেতার মতো নিজের ভুলের দায় নিয়েছেন, যা ট্রাম্পের আচরণের সম্পূর্ণ বিপরীত। ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর আগে গোপন নথি নিজের ফ্লোরিডার বাসভবনে রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তার পুনর্নির্বাচনের পর খারিজ হয়ে যায়।

 ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে বরখাস্ত হওয়া বোল্টন ২০২০ সালে একটি স্মৃতিকথামূলক বই প্রকাশ করেন, যেখানে ট্রাম্পের ভূ-রাজনৈতিক অজ্ঞতার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছিল। তৎকালীন হোয়াইট হাউজ বইটির প্রকাশনা আটকানোর চেষ্টা করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়, যার সূত্র ধরে পরবর্তীতে এই তদন্ত শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিচার বিরল হলেও নজিরবিহীন নয়।

সূত্র: বিবিসি

Advertisement
Advertisement
Advertisement