পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি রুখতে কঠোর হুঁশিয়ারি সড়কমন্ত্রীর: উন্নয়নের নামে লুটপাটের দিন শেষ
নিজস্ব প্রতিবেদক | শরীয়তপুর
পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে যখন শরীয়তপুরের বাতাসের সাথে মিশে যাচ্ছিল কচি চারাগাছের ঘ্রাণ, ঠিক তখনই আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এক কঠোর বার্তা দিলেন সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার দুপুরে এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, কোরবানির পশুবাহী গাড়িতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সুযোগ নেই। মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, "যদি কোথাও চাঁদাবাজির বিন্দুমাত্র তথ্য পাওয়া যায়, তবে জড়িতদের মুহূর্তেই আইনের আওতায় আনা হবে।"
ঈদুল আজহা মানেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা আর কোরবানির পশুর হাটে ব্যস্ততা। এই সময়ে মহাসড়কে পশুবাহী ট্রাক থামিয়ে অবৈধ অর্থ আদায়ের যে সংস্কৃতি দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছিল, তা এবার কঠোর হস্তে দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাতে খামারি ও সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মন্ত্রী বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, গত ১৮ বছর ছিল ফ্যাসিবাদী শাসনের অধীনে উন্নয়নের নামে লুটপাটের মহোৎসব। বিশেষ করে শরীয়তপুর ও বৃহত্তর ফরিদপুর এলাকা এই দীর্ঘ সময়ে চূড়ান্ত অবহেলার শিকার হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "শরীয়তপুরের ওপর দিয়ে রেললাইন চলে গেলেও এখানে কোনো স্টেশন নেই—এটি এই জনপদের মানুষের সাথে উপহাস ছাড়া আর কিছু নয়। তবে বর্তমান সরকার এখানে আধুনিক রেল স্টেশন নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
মেগা প্রকল্পের আড়ালে দেশের অর্থব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম সাধারণ মানুষকে কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আভ্যন্তরীণ অর্থব্যবস্থা ভঙ্গুর হলেও মাত্র আড়াই মাসে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমরা অনেক জনকল্যাণমূলক কাজ শুরু করেছি। মানুষের সেবার পবিত্র দায়িত্ব নিয়ে আমরা কাজ করছি।"
পদ্মা পাড়ের এই কর্মসূচিতে গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বলতে গিয়ে মন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিটি চারাগাছের যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "জবাবদিহিতামূলক শাসন আর টেকসই কর্মকাণ্ডই হবে এই সরকারের মূল পরিচয়।"
অনুষ্ঠানের শেষভাগে মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তৃণমূলের নেতাদের সংগঠিত করার মধ্য দিয়েই আজ ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে বর্তমান সরকার প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর জনমনে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পশুবাহী ট্রাক নিয়ে যারা মহাসড়কে আতঙ্কিত থাকেন, তাদের জন্য মন্ত্রীর এই 'জিরো টলারেন্স' নীতি এক বড় আশার আলো। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে এই নির্দেশের প্রতিফলন কতটা কার্যকরভাবে ঘটে।