মব কালচার দমনে কঠোর হচ্ছে সরকার: আসছে নতুন আইন, পুলিশে মিলবে ওভারটাইম

 প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

মব কালচার দমনে কঠোর হচ্ছে সরকার: আসছে নতুন আইন, পুলিশে মিলবে ওভারটাইম

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে রবিবার এক বিশেষ গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হলো পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের আইনশৃঙ্খলার বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নেওয়া ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনি দমনে কঠোর আইনি সংস্কারের বার্তা, যা উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি দেশবাসীর মনেও এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ভাষণে অকপটে স্বীকার করেন যে, দেশে বর্তমান সময়ে বাড়তে থাকা মব কালচার নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত আইনের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেবল বিদ্যমান আইন দিয়ে এই প্রবণতা পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। আইনের ফাঁকফোকর গলে অপরাধীরা অনেক সময় পার পেয়ে যাচ্ছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে। এই সংকট নিরসনে তিনি স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) বর্তমান আইন পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে প্রচলিত আইন সংশোধন করে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হবে কিংবা সম্পূর্ণ নতুন আইন প্রণয়ন করে এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

​অনুষ্ঠানে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। বিশেষ করে অনলাইন জুয়া এবং সাইবার ক্রাইম যেভাবে তরুণ প্রজন্মকে গ্রাস করছে, তা বন্ধে সরকার এক চুলও ছাড় দেবে না বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, অপরাধের ধরন এখন আর আগের মতো নেই; ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ব্যবহার অপরাধীদের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। এই আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা বিদেশের আধুনিক আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে দ্রুত একটি খসড়া তৈরি করবে। অবৈধ মানি ট্রান্সফার এবং সাইবার অপরাধীদের দমনে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন।

​বক্তব্যের এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের দীর্ঘদিনের এক আক্ষেপ মেটানোর ইঙ্গিত দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, পুলিশের পরিদর্শক থেকে কনস্টেবল পর্যায় পর্যন্ত যারা অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন, তাদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ‘ওভারটাইম ভাতা’ চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। তিনি মনে করেন, কর্মঘণ্টার সঠিক মূল্যায়ন হলে পুলিশ বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি পাবে এবং তারা আরও আন্তরিকতার সঙ্গে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করবে। এই উদ্যোগকে পুলিশিং ব্যবস্থায় একটি ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

​গত দুই মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী দাবি করেন, দেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন, আইন প্রয়োগে কোনো পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা হবে না। মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে পুলিশ বাহিনীকে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

Advertisement
Advertisement
Advertisement