হজের প্রাক্কালে ‘নিশ্ছিদ্র’ মক্কা: কাবার আঙিনা থেকে অভ্যর্থনা কেন্দ্র—তদারকিতে ডেপুটি আমির

 প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

হজের প্রাক্কালে ‘নিশ্ছিদ্র’ মক্কা: কাবার আঙিনা থেকে অভ্যর্থনা কেন্দ্র—তদারকিতে ডেপুটি আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

আসন্ন পবিত্র হজের পুণ্যলগ্নে বিশ্ব মুসলিমের মিলনমেলা বসতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। আল্লাহর মেহমানদের পদচারণায় মুখরিত হতে শুরু করেছে মক্কার অলিগলি। এই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে হাজীদের নিরাপত্তা, আরামদায়ক ইবাদত এবং নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে এক বিশাল কর্মযজ্ঞে নেমেছে সৌদি প্রশাসন। প্রস্তুতির সেই মহাযজ্ঞ সরেজমিনে পরখ করতে রোববার (১০ মে) দিনভর মক্কার পবিত্র হারাম শরীফ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো পরিদর্শন করেছেন মক্কার ডেপুটি আমির ও হজ-ওমরাহ কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল।

​কাবার আঙিনায় প্রস্তুতির ঝিলিক

​ভোরের আলো যখন কাবা শরীফের সোনালি গিলটে প্রতিফলিত হচ্ছিল, ঠিক তখনই মসজিদুল হারামের মাতাফ (তাওয়াফের স্থান) চত্বরে পৌঁছান প্রিন্স সৌদ। তার পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল হাজীদের ভিড় ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান যাচাই করা।

​পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে জানান, এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হবে, যাতে অতি গরমেও হাজীরা কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই তাওয়াফ সম্পন্ন করতে পারেন। প্রিন্স সৌদ বিশেষ করে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষম হাজীদের জন্য ইলেকট্রিক কার এবং বিশেষ যাতায়াত ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন।

​আধুনিকায়নের পথে ‘তৃতীয় সৌদি সম্প্রসারণ’

​ডেপুটি আমির গ্র্যান্ড মসজিদের বিশালকার 'তৃতীয় সৌদি সম্প্রসারণ' প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং হারামাইন কর্তৃপক্ষের এই যৌথ প্রকল্পে নামাজের জন্য বিশাল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলরুম, অত্যাধুনিক অজুখানা এবং দ্রুত যাতায়াতের জন্য এসকেলেটর স্থাপনের কাজ চলছে। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই সব সুবিধাদি হাজীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তাঁর কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা—"আল্লাহর মেহমানদের সেবায় কোনো শিথিলতা সহ্য করা হবে না।"

​ডিজিটাল প্রযুক্তিতে হাজীদের অভ্যর্থনা

​হারাম শরীফ থেকে বেরিয়ে প্রিন্স সৌদ সরাসরি চলে যান আল-নাওয়ারিয়াহ হজযাত্রী অভ্যর্থনা ও নির্দেশনা কেন্দ্রে। সেখানে তাকে স্বাগত জানান হজ্জ ও ওমরাহ বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ মাশাত এবং মক্কার মেয়র মুসায়েদ আল দাউদ।

​এই কেন্দ্রটি মূলত হজের এক ‘স্মার্ট কন্ট্রোল রুম’। সেখানে বড় বড় ডিজিটাল স্ক্রিনে ফুটে উঠছে হাজীবাহী প্রতিটি বাসের রিয়েল-টাইম অবস্থান। কোনো বাস কোথায় থামছে, কোন হোটেলে হাজীদের চেক-ইন হচ্ছে—সবই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এক ক্লিকে। প্রিন্স সৌদ সেখানে ‘প্রি-অ্যারাইভাল রুম’-এর কার্যক্রম দেখে মুগ্ধ হন। এই ব্যবস্থার ফলে কোনো হাজীকে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না; বরং হাজীরা পৌঁছানোর আগেই তাদের জন্য আবাসন ও খাবার নিশ্চিত করা হচ্ছে।

​এক অনন্য অভিজ্ঞতার অপেক্ষায় বিশ্ব

​পরিদর্শন শেষে প্রিন্স সৌদ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে হজের প্রতিটি ধাপকে করা হয়েছে প্রযুক্তিবান্ধব। বাসের রুট পরিবর্তন থেকে শুরু করে হাজীদের মালপত্র পরিবহন—সবই এখন একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হয়েছে।

​মক্কার মেয়র মুসায়েদ আল দাউদ জানান, পরিচ্ছন্নতা কর্মী থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী—সবাইকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শহরজুড়ে বসানো হয়েছে হাজার হাজার নতুন পানির ফোয়ারা ও ছায়াযুক্ত বিশ্রামাগার।

​পরিশেষে, 

মক্কার ডেপুটি আমিরের এই পরিদর্শন কেবল একটি রুটিন সফর ছিল না, বরং এটি ছিল বিশ্ববাসীকে দেওয়া এক বার্তা—'শান্তি ও নিরাপত্তার নগরী মক্কা এখন প্রস্তুত'। মরুভূমির তপ্ত বালুর বুকে হাজীদের জন্য এক শীতল ও প্রশান্তিদায়ক হজের অভিজ্ঞতা উপহার দিতে বদ্ধপরিকর সৌদি রাজপরিবার।

Advertisement
Advertisement
Advertisement