চেন্নাইয়ের সিংহাসনে ‘থলপতি’: রাহুলের উপস্থিতিতে বিজয়ের মহাবিপ্লব, শুরু নতুন এক অধ্যায়

 প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

চেন্নাইয়ের সিংহাসনে ‘থলপতি’: রাহুলের উপস্থিতিতে বিজয়ের মহাবিপ্লব, শুরু নতুন এক অধ্যায়

​আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

​ম্যারিনা বিচের লোনা বাতাস আজ যেন এক নতুন রাজনীতির গন্ধ বয়ে আনছিল। নীল সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জনের চেয়েও জোরালো শব্দে যখন ‘বিজয়’ নামটা প্রতিধ্বনিত হলো, তখন উপস্থিত কয়েক লক্ষ মানুষের আবেগ বাঁধ ভেঙেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতির রঙিন রুপোলি পর্দা থেকে নেমে এসে বাস্তবের মাটিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, ভক্তদের প্রিয় ‘থলপতি’। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হিসেবে তাঁর ঠিক পাশেই বসেছিলেন কংগ্রেসের শীর্ষ জননেতা রাহুল গান্ধী। যা আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

​শপথের মঞ্চে এক নতুন ভোরের সূচনা

​চেন্নাইয়ের রাজকীয় এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিজয়ের সঙ্গে শপথ নিলেন তাঁর মন্ত্রিসভার আরও নয়জন সদস্য। তবে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সেই মানুষটিই, যিনি সেলুলয়েডের মারদাঙ্গা অ্যাকশন ছেড়ে এখন জনতার ‘সেবক’ হওয়ার ব্রত নিয়েছেন। মঞ্চে যখন রাহুল গান্ধী ও বিজয়ের করমর্দন হয়, তখন তা কেবল দুই নেতার সৌজন্য বিনিময় ছিল না; বরং তা ছিল দক্ষিণ ভারতের আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে জাতীয় রাজনীতির এক মেলবন্ধনের আবহ। রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি বুঝিয়ে দিয়েছে যে, বিজয়ের এই জয়যাত্রা দিল্লির অলিন্দেও যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

​‘আমি ঈশ্বরের দূত নই, আমি আপনাদেরই লোক’

​মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ঠিক পরেই বিজয় যখন মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ালেন, চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কোনো আড়ম্বর নয়, কোনো অতিমানবিক দাবি নয়; বরং বিনম্র স্বরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন— “আমি কোনো অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী নই, আমি কোনো ঈশ্বরের দূত হিসেবে আসিনি। আমি আপনাদেরই একজন সাধারণ মানুষ, যাকে আপনারা ভালোবেসে এই গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন।” তাঁর এই মাপা কথাগুলো যেন জনতার হৃদয়ে সরাসরি আছড়ে পড়ল। তিনি আরও বলেন, শাসনের গদিতে বসলেও তিনি আসলে একজন ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ হিসেবেই কাজ করতে চান, যেখানে তফাৎ থাকবে না জাতি, ধর্ম কিংবা বর্ণের।

​একগুচ্ছ ঘোষণা ও আগামীর স্বপ্ন

​শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর কলম থেকে বেরিয়ে এল একগুচ্ছ জনহিতকর ঘোষণা। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। বিশেষ করে বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান এবং কৃষি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের যে রূপরেখা তিনি পেশ করেছেন, তা ছিল এক কথায় অভাবনীয়। বিজয়ের কথায় ফুটে উঠল এক আধুনিক ও স্বনির্ভর তামিলনাড়ুর ছবি। তিনি কেবল সিনেমার নায়ক হিসেবে সংলাপ দেননি, বরং একজন দক্ষ প্রশাসকের মতো প্রতিটি সমস্যার সমাধানসূত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

​জাতীয় রাজনীতির নতুন কম্পন

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিজয়ের এই উত্থান কেবল তামিলনাড়ুর গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর এই রসায়ন দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে এক মজবুত দেওয়াল গড়ে তুলতে পারে। বিজয়ের এই জয় যেন একাধারে এমজিআর বা জয়ললিতার সেই স্বর্ণযুগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে, যেখানে সিনেমা আর রাজনীতির এক অদ্ভুত মোহময়ী রসায়ন তামিল জনতার ভাগ্য নির্ধারণ করত।

​সন্ধ্যার আলো যখন চেন্নাইয়ের আকাশকে রাঙিয়ে দিচ্ছিল, তখন ম্যারিনা বিচে বিজয়-ভক্তদের উল্লাস একটাই বার্তা দিচ্ছিল— তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এক নতুন সূর্যোদয় হয়েছে। এবার দেখার, পর্দার হিরো বাস্তব জীবনের কঠিন পিচে কতটা সফলভাবে ব্যাটিং করতে পারেন। তবে শুরুটা যে দাপুটে হয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

Advertisement
Advertisement
Advertisement