সংবাদ শিরোনাম

জলবায়ু সংকটে উপকূল, সমাধান খুঁজছে তিন বিশ্ববিদ্যালয়

 প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন   |   খুলনা

জলবায়ু সংকটে উপকূল, সমাধান খুঁজছে তিন বিশ্ববিদ্যালয়

খুলনা ব্যুরো :

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-মধ্য উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্প ‘অ্যাডাপটিভ ডেল্টা ম্যানেজমেন্ট ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি (এডিএম-ক্রাফট)’-এর ইনসেপশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

রোববার (১৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত এ কর্মশালায় গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী ও কৃষি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। নেদারল্যান্ডসের রিসার্চ কাউন্সিলের (এনডব্লিউও) অর্থায়নে প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিনজেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় উপকূলীয় অঞ্চলে। এ বাস্তবতায় গবেষণার ফল সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয় ‘লিভিং ল্যাব’ ধারণাকে এগিয়ে নিতে চায়, যেখানে গবেষক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সরকারি-বেসরকারি অংশীজন একসঙ্গে বাস্তবসম্মত সমাধান উদ্ভাবন করবেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ লবণাক্ততা। এ কারণে অনেক মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে গবেষণার মাধ্যমে কার্যকর সমাধান বের করতে পারলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া সহজ হবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত উপকূলীয় কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে অভিযোজনভিত্তিক ডেল্টা ব্যবস্থাপনা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ দেখাতে পারে।

বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ওয়াটার অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক প্রতিনিধি নিল্টিয়ে কিলেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। গবেষণার ফল যেন কেবল প্রকাশনায় সীমাবদ্ধ না থেকে দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

কর্মশালায় প্রকল্পের লক্ষ্য, বাস্তবায়ন কৌশল ও সম্ভাব্য ফলাফল তুলে ধরা হয়। পরে অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা, ডেল্টা ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু অভিযোজন নিয়ে গবেষণা ও নীতিগত সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়াগেনিনজেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চের শিক্ষক-গবেষক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং কৃষক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement