গাজায় বসতি ফেরাতে ইসরায়েলি মন্ত্রীদের সীমান্তমুখী পদযাত্রা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজায় আবারও ইহুদি বসতি স্থাপনের দাবিতে ইসরায়েলের কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং শত শত বসতিস্থাপন-সমর্থক রোববার গাজা সীমান্তের দিকে পদযাত্রা করেছেন। শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেনাবাহিনী তাদের নির্ধারিত পথ সীমিত করে দিলেও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এই পদযাত্রাকে গাজায় পুনরায় বসতি স্থাপনের দাবিকে ইসরায়েলের মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনায় আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টির নামও সমাবেশের পৃষ্ঠপোষকদের তালিকায় ছিল। তবে নেতানিয়াহু আগেই বলেছেন, গাজায় পুনরায় বসতি স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা নেই।
পদযাত্রার আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সীমান্তসংলগ্ন এলাকাকে ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ সামরিক অঞ্চল ঘোষণা করে। সেনাবাহিনীর ভাষ্য, বিক্ষোভকারীদের কেউ যেন সীমান্ত পেরিয়ে গাজায় প্রবেশ করতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপরও কয়েকজন অংশগ্রহণকারী পাশের পাহাড়ি পথ দিয়ে নিরাপত্তা চৌকি এড়িয়ে সীমান্তে পৌঁছে যান। আল জাজিরার যাচাই করা ভিডিওতে সীমান্তের বেড়ার কাছে কয়েক ডজন মানুষকে জড়ো হতে দেখা গেছে।
এই কর্মসূচির আয়োজন করে বসতিস্থাপনপন্থী সংগঠন নাচালা। সংগঠনটির দাবি, পদযাত্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের হিসাবে উপস্থিতি ছিল কয়েকশ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
নাচালার প্রধান দানিয়েলা ওয়েইস দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় আবার ইহুদি বসতি গড়ে তোলার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এর আগে লিকুদ পার্টির এক সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিরা “অদৃশ্য হয়ে যাবে”।
পদযাত্রায় অংশ নেন অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং দুই ডজনের বেশি মন্ত্রী ও আইনপ্রণেতা। স্মোটরিচ একই সঙ্গে বসতি–সংক্রান্ত বিষয়ও তদারকি করেন। ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে স্মোটরিচ ও বেন-গভিরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
“২১ বছর পর আবার ঘরে ফেরা” স্লোগানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ২০০৫ সালে ইসরায়েলের একতরফা গাজা প্রত্যাহারের সময় সরিয়ে নেওয়া এলেই সিনাই, দুগিত ও নিসানিত-এই তিনটি ইহুদি বসতি পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়।
বেন-গভির পদযাত্রা থেকে নিজের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে লেখেন, “গাজা আমাদের।” অন্যদিকে স্মোটরিচ ইসরায়েলিদের উদ্দেশে বলেন, গাজায় আবার বসতি গড়ে তোলার এই “ঐতিহাসিক সুযোগ” হাতছাড়া করা উচিত নয়।
এদিকে ফিলিস্তিনি আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডায়ানা বুত্তু আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর জবাবদিহির অভাবই বসতি সম্প্রসারণের এমন উদ্যোগকে উৎসাহিত করেছে। তাঁর ভাষায়, “ইসরায়েল কখনোই তাদের অপরাধের জন্য শাস্তি পায়নি। তাই গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি রাষ্ট্র আরও ভূমি দখলে সাহসী হয়ে উঠছে-এটাই স্বাভাবিক।”
গত ডিসেম্বরেও নাচালার কয়েকজন কর্মী অল্প সময়ের জন্য গাজায় প্রবেশ করে সেখানে ইসরায়েলের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। পরে ইসরায়েলি সেনারা তাদের সীমান্তের এপারে ফিরিয়ে আনে।
সূত্র:আলজাজিরা