শিবগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
ছবি--- সংগৃহীতশিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ, মহাসড়কে টহল জোরদার এবং বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে এ সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. কেরামত আলী।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে মাদক প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা, বিভিন্ন অপরাধের প্রবণতা এবং মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।
| আরো পড়ুন ---চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাইলট প্রকল্প |
বক্তারা বলেন, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, নিয়মিত নজরদারি ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মহাসড়কে টহল বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা ও মতামত তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে চুরি, ছিনতাইসহ জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে এমন অপরাধ প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার তাগিদ দেওয়া হয়।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা রুমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার প্রতিনিধি ডা. ফজলে রাব্বী, মোবারকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহামুদুল হক মাহামুদ (মিঞা), দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আজম, শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম ও ধাইনগর ইউনিয়নের আব্দুল লতিবসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
এ সময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সরকার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরাও সভায় অংশ নেন।
সভায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সামনে বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সরকারি দপ্তরগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনা শেষে সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।