আফ্রিকা শিল্ড: নিরাপত্তার নতুন ঝুঁকিতে শিল্পায়ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আফ্রিকার দ্রুত শিল্পায়ন ও অর্থনীতির বিকাশের সাথে সাথে সংবেদনশীল রাসায়নিক, জৈব, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক (সিবিআরএন) উপাদানের নিরাপত্তা রক্ষা এখন মহাদেশটির দেশগুলোর জন্য এক নতুন নিরাপত্তাজনিত অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিল্পকারখানা, খনি এবং গবেষণায় ব্যবহৃত এসব উপাদানের অপব্যবহার ও চুরি ঠেকাতে গত ১৪ থেকে ১৬ জুলাই টিউনিসিয়ার টিউনিসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘আফ্রিকা শিল্ড ২০২৪’ শীর্ষক এক আঞ্চলিক কর্মশালা।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স থ্রেট রিডাকশন এজেন্সি (ডিটিআরএ), ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে আফ্রিকার ১০০ জনেরও বেশি আইন প্রয়োগকারী, সামরিক ও নীতি নির্ধারণী কর্মকর্তা অংশ নেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫৪০ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার মূল লক্ষ্য অ-রাষ্ট্রীয় কোনো শক্তির হাতে যেন ধ্বংসাত্মক অস্ত্র বা উপাদান পৌঁছাতে না পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকায় এতদিন সামরিক সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদই প্রধান নিরাপত্তা ইস্যু হলেও, এখন অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে সিবিআরএন উপাদানের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাইজেরিয়াভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুবারক আলিউ জানান, স্বাস্থ্য ও শিল্পের প্রসারে ব্যবহৃত এই প্রযুক্তি ভুল হাতে পড়লে মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে। তাই উন্নয়ন না থামিয়ে কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
তবে আফ্রিকার অনেক দেশেই পর্যাপ্ত তহবিল, বিশেষজ্ঞ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে সিবিআরএন সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালার প্রয়োগ এখনো দুর্বল। সীমান্ত নজরদারির সীমাবদ্ধতা ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এএফসিএফটিএ) ফলে বাণিজ্যিক পথগুলো যেন চোরাচালানে ব্যবহৃত না হয়, সেদিকে জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আফ্রিকান চেম্বার অফ কন্টেন্ট প্রডিউসারসের পরিচালক ফিল এফে বেনার্ড জানান, কেবল বিদেশী সহযোগীদের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের গোয়েন্দা ও ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
আফ্রিকা শিল্ড মূলত প্রথাগত নিরাপত্তার বাইরে গিয়ে আধুনিক অর্থনীতির প্রযুক্তিগত ঝুঁকি দূর করার এক কার্যকর প্রয়াস। অর্থনৈতিক রূপান্তরের সাথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন আফ্রিকান সরকারগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
সূত্র:আলজাজিরা